বিশ্বে সহজেই কাটবে না জ্বালানি সংকট; বিকল্প পদ্ধতি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফিলিং স্টেশন
বিদেশে এখন
0

সহসাই কমছে না জ্বালানির সরবরাহ সংকট। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পরিবহণে খরচ রাতারাতি বেড়ে যাওয়া চলতি বছরের পুরো সময়েই জ্বালানি ঘাটতির সঙ্গে লড়তে হবে বিশ্ববাসীকে। আর কাতারের এলএনজি স্থাপনাগুলোতে হামলার জেরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারও সহজে স্থিতিশীল হচ্ছে না। এই সংকট কেটে গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা থেকে বের হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে সংযুক্তকারী সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ সংকটে বিশ্ব। যাকে ইতিহাসের অন্যতম বড় সরবরাহ বিপর্যয় বলছেন বিশ্লেষকরা।

এখন প্রশ্ন ওঠে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা কি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের রূপ নিতে যাচ্ছে নাকি এর প্রভাব সাময়িক। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই যুদ্ধ যদি খুব দ্রুত শেষ হয় তারপরেও জাহাজ পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়া ও ইরানের শুল্কের কারণে অন্তত চলতি বছর পর্যন্ত বৈশ্বিক এই জ্বালানি সরবরাহ সংকট থেকেই যাবে।

জিটিসিএল পেট্রোবাংলা জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আবদুস সালেক বলেন, ‘জাহাজে কস্ট বেড়ে গেছে। যুদ্ধ যদি কালও বন্ধ হয়ে যায় তাও অন্তত এ বছর এর ইমপ্যাক্ট থাকবে। পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি এর থেকেও বেশি দীর্ঘায়ত হবে।’

আরও পড়ুন:

ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় কাতারের রাস লাফান শিল্প নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি উৎপাদন ও সংরক্ষণ স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে কাতার থেকে বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, কাতার ছাড়াও বিকল্প উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ থেকে এলএনজি কিনতে হলে পরিশোধ করতে হবে স্পট প্রাইজ। যা স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে, এলএনজি সেক্টরেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বিশ্ব।

তিনি বলেন, ‘কাতারের একটি এলাকায় কিছুদিন আমি কাজ করেছি। রাসরাফানে ইরানের মিসাইল হামলার জন্য এ এলাকায় বড় ক্ষতি হয়েছে। কাতার সরকার বলছে এটি ঠিক করতে ৫ থেকে ৬ বছর সময় লাগতে পারে। হুতিরা এখন ইরানের হয়ে যুদ্ধ করতে চাচ্ছে। হুতিরা যদি যুদ্ধ করে আরেকটি অঞ্চল আক্রান্ত হবে।’

রাতারাতি এই সংকটের কারণে শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয়, জ্বালানি আতঙ্কে বিপর্যস্ত পশ্চিমা দেশগুলোও।

তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোও আক্রান্ত হয়েছে। এসব দেশগুলোও চাচ্ছে যুদ্ধ যেন এখনই শেষ হয়ে যায়।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সংকট আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কতটা বিপজ্জনক। ফলে, শুধু সংকট নয় পরিবেশের কথা মাথায় রেখেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।

এফএস