ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় কার্যত অচল হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে, কমতে শুরু করেছে তেলের দাম, চাঙ্গা হয়েছে শেয়ারবাজার।
যুদ্ধবিরতির খবরে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলারে নেমে আসে। যদিও ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের এই দাম এখনও বেশি। সে সময় এটি ব্যারেল প্রতি দাম প্রায় ৭০ ডলার ছিল।
আরও পড়ুন:
শুধু জ্বালানি নয়, ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া-এর বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরে এসেছে।
বুধবার সকাল থেকেই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান স্টক সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জাপানের নিক্কেই সূচক ৫ শতাংশ বেড়ে দাড়ায় ২২৫ এ। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৬ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাং সেং ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। আর অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ তে। মার্কিন স্টক মার্কেট ফিউচার এবং ওয়াল স্ট্রিটেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকুইয়ের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশ্লেষক সল কাভোনিক জানান, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালির কাছে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো জলপথটি দিয়ে যাতায়াত করতে সক্ষম হলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হলে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে এশিয়ার আমদানি নির্ভর দেশগুলোর ওপর, যারা ইতোমধ্যেই উচ্চমূল্যের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।





