গতকাল (শুক্রবার, ১০ এপ্রিল) হিজবুল্লাহ সমর্থকদের একটি সমাবেশে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পশ্চিম বৈরুতের হামরা এলাকা পর্যন্ত মিছিল করে।
সাধারণত হিজবুল্লাহ-বিরোধী এলাকা হামরার বাসিন্দাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্ক দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা “শিয়া, শিয়া” স্লোগান দিতে থাকে, যা গোষ্ঠীটির প্রধান সমর্থনভিত্তি শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি ইঙ্গিত করে।
হিজবুল্লাহ সমর্থকরা আজ (শনিবার, ১১ এপ্রিল) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আলোচনার বিরুদ্ধে আরেকটি সমাবেশ করে। বিক্ষোভকারীরা হিজবুল্লাহর পতাকা ও মৃত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর ছবি উঁচিয়ে ধরে। লেবাননি সেনাবাহিনী এলাকায় সৈন্য মোতায়েন করে এবং এই সংবেদনশীল মুহূর্তে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার যেকোনো প্রচেষ্টা সহ্য করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয়।
আরও পড়ুন:
গত মাসজুড়ে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে দেশজুড়ে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর থেকেই লেবাননের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়ছিল। ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের সম্পৃক্ততা নিয়ে মতবিরোধ বিভক্ত দেশটিকে আরও বিপর্যস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করছিল।
লেবাননের বাসিন্দারা আশা করছিলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে হওয়া বৈঠক থেকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে লেবাননিরা দেখছিলেন।
যুদ্ধবিরতির আলোচনা থাকলেও ইসরাইলি হামলা ও হিজবুল্লাহর রকেট হামলা অব্যাহত ছিল। দক্ষিণের কাফর সির, জিফতা ও তুল শহরে ইসরাইলি হামলায় রাতারাতি ১০ জন নিহত হন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলের শহরগুলোর দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। ইসরাইলি সেনা ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা লেবাননের ভেতরেই সংঘর্ষ অব্যাহত রেখেছে, কৌশলগত শহর বিনত জবেইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চলছে।





