৪৭ দিন পর শর্ত সাপেক্ষে কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালি সচল করেছে ইরান। অচলাবস্থা কেটে যাওয়ায় ৭ সপ্তাহ পর নির্বিঘ্নে প্রণালি অতিক্রম করেছে প্রথম যাত্রীবিহীন প্রমোদতরী ক্রুজ লাইনার। এর পরপরই পার হয়েছে গালফ অঞ্চল থেকে আসা গ্যাস ক্যারিয়ার, কেমিকেল ট্যাঙ্কার। কিন্তু এখনই ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। ১৩ এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত ইরান বন্দরগামী ও বন্দর ছেড়ে আসা মোট ২১টি জাহাজ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করছে ওয়াশিংটন।
ইরানের হুঁশিয়ারি এই অবরোধ তুলে না নিলে আবারও হরমুজ বন্ধ করবে আইআরজিসি। এছাড়াও, হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে তেহরানও। তবে একচেটিয়া ফি'র বদলে আইন করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলাকারী জাহাজে টোল বসানোর পরিকল্পনা করছে ইরান। পার্লামেন্টে প্রস্তাব তুলে দ্রুত একটি তালিকা প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র।
আরও পড়ুন:
যদিও হরমুজ খুলে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ-এশিয়ার শেয়ার বাজার আবারও চাঙ্গা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরায় বিশ্বজুড়ে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং শেয়ার বাজারের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শিপিং লাইনার এবং লজিস্টিক কোম্পানি ছাড়াও বেড়েছে অ্যাপল ও টেসলার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দর। পাশাপাশি ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ৯০ দশমিক ৩৮ ডলার।
কমেছে জাহাজের জ্বালানি সালফার ফুয়েলে দামও। প্রতি টন জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে ৮৫৬ ডলারে। যুদ্ধকালীন সময়ের চেয়ে এই দাম ১৯ শতাংশ কম হলেও, স্বাভাবিকের তুলনায় এই দাম ৭৩ শতাংশ বেশি।
এদিকে, সংকট কাটাতে ৯টি তেল কোম্পানিকে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ২৬.০৩ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ঋণ দিয়েছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সম্মিলিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। জ্বালানি বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত তিন ধাপে শিল্পখাতে মোট ১২৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিতরণ করেছে। এদিকে হরমুজ খুলে দেওয়ায় আপ্লুত ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের এ সিদ্ধান্তে ভীষণ খুশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জ্বালানির গুণগত মান সংক্রান্ত কড়াকড়ি শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এখনও বিপাকে চীনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে প্লাস্টিক শিল্পে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।





