মিয়ানমারে জান্তার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান বিদ্রোহীদের

জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং
বিদেশে এখন
0

মিয়ানমারের নবনির্বাচিত জান্তা সরকারের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। অং সাং সু চির সরকারকে হটিয়ে যারা ক্ষমতায় বসেছে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা মিয়ানমারের সামরিক সরকার গত জানুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতার আসনে। মিন অং হ্লাইং যিনি পাঁচ বছর আগেই মিয়ানমারে একটি অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, চলতি মাসের শুরুতে তাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে দেশটির সংসদ। যদিও বিরোধীদলের বর্জন করা এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

ক্ষমতায় বসেই হ্লাইং বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রস্তাব দিলেন শান্তি আলোচনার। রয়টার্স জানায়, গত মঙ্গলবার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ১০০ দিনের মধ্যে একটি শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। তবে সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিলো প্রধান দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন এবং চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট।

আরও পড়ুন:

প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সামরিক প্রভাবমুক্ত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে তারা। কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সাং সু চির নেত্বত্বাধীন সরকারকে সরিয়ে দেয়া জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার বা তাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুসরণ করার পরিকল্পনা তাদের নেই।

চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের মুখপাত্র সালাই তেত নি-ও জানান, তার দল সামরিক প্রভাবমুক্ত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাইছে। তাই এই সামরিক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কিছু নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন আসলে গণতন্ত্রের আড়ালে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা ধরে রাখার অপকৌশল।

২০২২ সাল থেকেই মিয়ানমারের সামরিক সরকার বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করতে সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে তাতে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জান্তা। দেশটির বেশিরভাগ অংশে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত।

ইএ