ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন এক বিবৃতিতে জানান, ‘প্রেসিডেন্ট যাতে তার মিত্রদের আর ‘‘কাগুজে বাঘ’’ হিসেবে না দেখেন এবং তারা যাতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন, সেটি নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ কাজ করছে। অভ্যন্তরীণ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এর বাইরে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।’
পেন্টাগনের এক অভ্যন্তরীণ ফাঁস হওয়া ইমেইলে এই প্রস্তাবের ভাষা কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সরাসরি ব্রিটেনকে উসকানি দেয়ার একটি কৌশল। যুক্তরাজ্যে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি এখনো টাটকা, ফলে ওই বিতর্কিত অঞ্চলের ওপর ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে লন্ডনের জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যকে সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়াননি। যদিও তিনি গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নিতে ব্রিটিশ বাহিনীকে পাঠাননি। উল্লেখ্য, ওই বিমানগুলো হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলাকারী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
এতেই ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রিটেন কেবল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রণালি পাহারা দিতে আসতে চায়। ট্রাম্প রাজকীয় নৌ-বাহিনীর (রয়্যাল নেভি) বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ‘খেলনা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। এমনকি তিনি কিয়ার স্টারমারকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যাকে তোষণনীতির জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আটলান্টিক পাড়ের দুই দেশের এই ঐতিহাসিক ও সামরিক সম্পর্কে নজিরবিহীন তিক্ততা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।





