টাওয়ার হ্যামলেটস শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বজুড়েই অন্যতম বহুজাতিক ও বৈচিত্র্যময় একটি কেন্দ্র। নানা ঘটনা ও রাজনৈতিক কারণে এটি দেশটির রাজনীতিতে আলাদাভাবে আলোচিত। ইউরোপের শীর্ষ আর্থিক কেন্দ্র ক্যানারি ওয়ারফ এখানে অবস্থিত, যা এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়া টাওয়ার হ্যামলেটস ব্রিটেনের অন্যতম বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা, এখানে সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসবাস করে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ জনসংখ্যার এলাকাটিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিদের বসবাস। ৮১ হাজার বাংলাদেশি, এরপর ব্রিটিশ প্রায় ৭১ হাজার।
এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩৯ শতাংশ মুসলিম এরপর ২২ শতাংশ খ্রিস্টান। এসব কারণে গেলো কয়েক দশক থেকে নির্বাচনে ভোটার থেকে শুরু করে প্রার্থীর ক্ষেত্রেও এগিয়ে থাকছেন বাংলাদেশিরা।
আসছে ৭ মে’র নির্বাচনে নির্বাহী মেয়র পদে ব্রিটেনের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর হয়ে লড়ছেন ৪ বাংলাদেশি। এস্পায়ার পার্টি থেকে লড়ছেন বর্তমান নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান।
যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটসের এসপায়ার মেয়র প্রার্থী লুৎফুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার অঙ্গিকার থাকলো। তবে আমাকে পরবর্তীতে সমর্থন দেয়ার আগে গত চার বছর ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আমার কাজগুলো দেখবেন। আমাকে সমর্থন করার জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। যদি আগের মেয়াদের ভালো কিছু পদক্ষেপের সুবিধাগুলো আবারও পেতে চান তাহলে আমাদের সমর্থন করুন।’
আরও পড়ুন:
প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। তিনি ভোটারদের দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
লেবার মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আজ রাতেই আমরা নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ করেছি। এ ইশতেহার মানুষের কথা বলে। গত তিন-চার মাস ধরে আমরা এখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে, সব শুনে এগুলো ঠিক করেছি।’
টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জামি আলি। লিবডেম থেকে মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান। একইসঙ্গে তিনি কাউন্সিলর পদেও লড়ছেন।
লিবডেম মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি কোর্স, নেটওয়ার্কিং কোর্স, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ারিং এগুলো কোর্স প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমি যুবকদের জন্য চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা করতে চাই।’
ইন্ডিপেন্ডেন্ট মেয়র প্রার্থী জামী আলি বলেন, ‘প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে আমরা এই জেনারেশনের আর্থিক প্রয়োজনীয়তা জানার চেষ্টা করবো। তারপর ব্যবস্থা নেবো।’
লন্ডন মেয়র, টাওয়ার হ্যামলেট, নিউহাম, হেকনি, লুইশামসহ লন্ডনে ৫টি এবং ইংল্যান্ড জুড়ে মোট ২৩টি নির্বাহী মেয়র পদ আর ৫ হাজারের বেশি কাউন্সিল আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ মে।





