বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জেরে নাগরিকদের মালি ছাড়ার নির্দেশ ফ্রান্সের

গত সপ্তাহান্তে মালির রাজধানী বামাকোতে বিস্ফোরণ ও গোলাগোলির ঘটনা ঘটে
বিদেশে এখন
0

বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধা ও চরমপন্থি জঙ্গিদের সমন্বিত হামলার মুখে মালি অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার পর বুধবার এক নির্দেশনায় ফরাসি নাগরিকদের মালিতে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘চরম অস্থিতিশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে প্যারিস। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত শনিবার রাজধানী বামাকোসহ মালির বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রাজধানীর কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থাকা কাতি শহরে জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলায় দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা নেতা সাদিও কামারা নিহত হন। অন্যদিকে, মালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিদাল এখন তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে।

মালির সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল আসিনি গোয়িতা অবশ্য দাবি করেছেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, হামলাকারীদের ওপর সেনাবাহিনী ‘তীব্র আঘাত’ হেনেছে এবং জঙ্গিবিরোধী অভিযান এখনো চলছে।

মালির সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বর্তমানে যেসব বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে ফরাসি নাগরিকদের সাময়িকভাবে মালি ত্যাগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’ যারা এখনো দেশ ছাড়তে পারেননি, তাদের ঘরে অবস্থান করতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যও তাদের নাগরিকদের মালি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এক সতর্কবার্তায় বলেছে, নিরাপত্তাহীনতার কারণে সড়কপথে প্রতিবেশী কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেরাই করার পরামর্শ দিয়েছে লন্ডন। এদিকে, মার্কিন দূতাবাসও মালি পরিস্থিতি ‘নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে বলে জানিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তুয়ারেগ জাতিগোষ্ঠীর স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে লড়াইরত ‘আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এফএলএ) মূলত উত্তরের শহরগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী ‘জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’ (জেএনআইএম) দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলা শুরু করেছে।

২০২০ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল গোয়িতা নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশটিতে অস্থিরতা কমেনি। মালির সামরিক সরকার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ও ফরাসি বাহিনীকে বিদায় করে দিয়ে রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধাদের নিয়োগ দিলেও উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা এখনো সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে।

এএম