স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান; থামতে পারে যুদ্ধ, থাকছে অমীমাংসিত ইস্যু

তেহরানে একটি সমাবেশে মানুষ স্লোগান দিচ্ছেন
বিদেশে এখন
2

যুদ্ধ থামাতে স্বল্পমেয়াদি একটি কাঠামোগত চুক্তির দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির বদলে আপাতত একটি সীমিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা সংঘাত বন্ধ করবে কিন্তু মূল বিরোধগুলো অমীমাংসিতই রাখবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে—প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা, এরপর হরমুজ প্রণালি সংকটের সমাধান এবং তারপর ৩০ দিনের আলোচনার সময়সীমা, যেখানে বৃহত্তর চুক্তির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এক জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘প্রথম লক্ষ্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। এরপর সরাসরি আলোচনায় বাকি ইস্যুগুলো নিষ্পত্তি করা যাবে।’

তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং কতদিন পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে—এ প্রশ্নগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাবিত স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের আগের কিছু দাবি—যেমন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা বা মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ—উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদী সুরে বলেছেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়, এটি সম্ভব।’ তবে ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ইরানি পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহিম রেজাই এই প্রস্তাবকে ‘আমেরিকান ইচ্ছার তালিকা’ বলে অভিহিত করেছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ব্যর্থ হয়েছে’, যা আলোচনাকে মার্কিন প্রচারণা হিসেবে ইঙ্গিত করে।

সম্ভাব্য চুক্তির খবরেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারের কাছাকাছি নেমেছে। শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে অন্তত বড় ধরনের সামরিক অভিযান আর হবে না।

এদিকে ট্রাম্প মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে নেয়া নৌ অভিযান স্থগিত করেন। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছে, সৌদি আরব তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি স্থগিত করায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। মার্কিন বাহিনী এখনো ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।

সব মিলিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমলেও বড় ও স্থায়ী চুক্তির পথ এখনো দীর্ঘ। ৩০ দিনের সম্ভাব্য আলোচনাই নির্ধারণ করবে, এই অস্থায়ী সমঝোতা বড় শান্তি চুক্তিতে রূপ নেবে কি না।

এএম