৪৮তম আসিয়ান সম্মেলন: গুরুত্ব পাচ্ছে জ্বালানি সংকট, খাদ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ

আসিয়ান সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন
বিদেশে এখন
0

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি সংকটে ধুঁকছে গোটা বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে ৪৮তম আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্ব পেয়েছে জ্বালানি সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। তিনদিনের সম্মেলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ এবং আসিয়ানের মহাসচিব ডক্টর কাও কিম হর্ন।

ফিলিপিন্সের সেবু দ্বীপে আজ শেষ হচ্ছে তিনদিনের ৪৮তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে জ্বালানি সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গ। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরে ম্যানিলা-বেইজিং উত্তেজনা কমানোর বিষয়টিও প্রাধান্য পাচ্ছে। এরইমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের দাবি জানিয়েছেন আসিয়ান নেতারা। এছাড়া সম্মেলনের বাইরে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার জোর দাবি তুলেছেন পরিবেশ কর্মীরা।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান সংকটে আসিয়ানের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রই তেল সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরমধ্যে সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া তাদের ভারী শিল্পের জ্বালানি সরবরাহ করতে বড় রকমের অসুবিধায়। যদিও,সিঙ্গাপুর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ফিলিপিন্স আলোচনা চলমান রেখেছে। দেশটির জ্বালানি সরবরাহের ৯৮ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।

ফিলিপিন্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা. থেরেসা লাজারো বলেন, এই শীর্ষ সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং বিদেশে থাকা আসিয়ান নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া এই সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবগুলো আলোচ্য সূচিতে বিশেষভাবে স্থান পাবে।

আরও পড়ুন:

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত-সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক চাপে অন্যান্য অঞ্চলে উদ্বেগ ছাপিয়ে যেতে পারে। আরেকদিকে, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক ওয়াফা খারিসমা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটটি একটি গুরুতর সংকট। আর এ জন্যই এটি মোকাবিলার জন্য আসিয়ান নেতারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

টিমোর-লেস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেন্ডিতো ফ্রেইটাস বলেন, এই সংকট পরিবহন ও পর্যটনসহ কিছু খাতে বাধা তৈরি করছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত লাখ লাখ আসিয়ান নাগরিককে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এরকম প্রেক্ষাপটে, আমাদের অঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় আসিয়ানের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুটি বিশেষ বৈঠক আহ্বান করেছিলাম। আলোচনায় উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে এক সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আসিয়ান সংকল্পবদ্ধ।

এছাড়া, আলোচনায় দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘদিনের স্থগিত আচরণবিধি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ম্যানিলা ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েছে। তবে, নেই কোনো অর্থবহ অগ্রগতি। সেক্ষেত্রে এ সম্মেলন থেকে একটি কার্যকর সমাধান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের আজ এখানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি এ অঞ্চলে আমাদের সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের অঙ্গীকার নিশ্চিত করে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে জ্বালানি, খাদ্য ও সারের দাম বেড়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে গেল বৃহস্পতিবার ফিলিপিন্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা. থেরেসা লাজারো এবং আসিয়ান চেয়ারপারসন মা. থেরেসা লাজারোর নেতৃত্বে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপিন্সের নেতারা এক হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিষয়ে তারা কথা বলেন।

ইএ