যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখনো একমত হতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাত ছড়িয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত। যার বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না তেল-গ্যাসের দাম। ক্ষতির মুখে বৈশ্বিক অর্থনীতি। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। কূটনৈতিক উপায়ে দ্রুত সংকট সমাধান হবে বলে আশা তার।
চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় উদ্বেগের মধ্যে মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এমন শঙ্কার কথা উঠে এসেছে ফেডারেল রিজার্ভের এক প্রতিবেদনে। গত ৬ মাসের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ফেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন:
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউইয়র্কের এক জরিপ অনুসারে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। মাত্র ছয় মাস আগে যা ছিল ৪৮ শতাংশ। এছাড়া, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি বাজারের অচলাবস্থার একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ৭০ শতাংশ মানুষ ইরান যুদ্ধকে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি আরও দীর্ঘায়িত হবে। ৫০ শতাংশ নাগরিক ব্যক্তিগত ঋণকেও এখন ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, গেল আট বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত এবার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। যা দিয়ে মাত্র ১০০ দিনের বৈশ্বিক চাহিদা মেটানো সম্ভব। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের সংকটে গ্যাস ও জেট ফুয়েলের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি বাড়বে অর্থনীতিতে। দাম নয় বরং জ্বালানি সংকট মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে।
এমন অবস্থায় হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে সড়ক পথে ট্রাকের মাধ্যমে সিরিয়ার বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করছে ইরাক। প্রতি মাসে সাড়ে ৬ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। চুক্তি অনুযায়ী, ইরাকের তেল সড়কপথে সিরিয়ার তেল টার্মিনালে পরিবহন করার পর সেখান থেকে রপ্তানির জন্য সামুদ্রিক ট্যাংকারে বোঝাই করা হবে।





