ইরান ইউরেনিয়াম শূন্য না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না: নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু
বিদেশে এখন
0

যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরানের দেয়া প্রতিক্রিয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তা নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজেদের দাবি বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক বলে দাবি তেহরানের। এদিকে ইরান ইউরেনিয়াম শূন্য না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। আর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ফের হামলা চালালে, আগের চেয়ে কঠিন জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে হয় প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক। ভেস্তে যায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা। তবে স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে অব্যাহত ছিলো দুদেশের চিঠি চালাচালি। একইসময় ইরানের বন্দরগুলো বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ ও হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং জাহাজ আটকের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এমন উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেয়া প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দেয়া ১৪ দফার প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান যে প্রতিক্রিয়া পাঠিয়ে তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বহাল রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে নিজেদের প্রতিক্রিয়া 'বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক' বলে দাবি ইরানের।

তেহরানের সূত্রের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া দাবি জানালেও; তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান। এমনকি পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরুর আগেই স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব রেখেছে ইরান। গাজা, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির দাবিও অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এছাড়া জব্দকৃত ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ফিরিয়ে দেয়া এবং যুদ্ধে ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান।

এদিকে সিবিএস নিউজের 'সিক্সটি মিনিটস' অনুষ্ঠানে ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। বলেন, এখনও ইরানের শাসন পরিবর্তন সম্ভব। এমনকি ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেছেন নেতানিয়াহু।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল আবারও যুদ্ধ শুরু করলে তেহরান আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অবাক করে দেয়ার মতো অস্ত্র দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এজন্য সবধরনের সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত করতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেছেন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে বহুজাতিক জোট গঠনের চেষ্টায় ওঠে পড়ে লেগেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি ডেস্ট্রয়ার পাঠানোর ঘোষণাও দিয়েছে লন্ডন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে সহযোগিতায় তাদের যেকোনো মিত্র দেশ যদি এগিয়ে আসে তাহলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সাবধান করে দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো ব্যবস্থার জবাব কঠোর জবাব দেবে, যা ওয়াশিংটনের চিন্তার বাইরে থাকবে।

ইএ