২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প আমেরিকার ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাঁচাতে চীনের ওপর দফায় দফায় শুল্ক আরোপ করেন। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সেই ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ চরম আকার ধারণ করে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে। তিনি চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়ে দেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করে, যা ট্রাম্পের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত কৃষকদের বিপাকে ফেলে। তবে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার সাক্ষাতের পর এই শুল্কযুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
এবারের সফরে বোয়িং, সিটিগ্রুপ ও কোয়ালকমের মতো বড় বড় মার্কিন কোম্পানির প্রধানেরা ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন। ওয়াশিংটন চাইছে চীন যেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের মতো পণ্য আরও বেশি পরিমাণে কেনে। অন্যদিকে, চীন নিজেদের রোবটিকস ও উন্নত চিপ তৈরির সক্ষমতা বাড়িয়ে পশ্চিমা নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। বেইজিং এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে থেকে আলোচনায় বসছে; কারণ গত কয়েক বছরে তারা বিকল্প বিশ্ববাজার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি এবারের বৈঠকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বড় ছায়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হলেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে তারা যুদ্ধের প্রভাব সামলে নিয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়বে। ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের অবস্থান ভিন্ন হলেও সংঘাত মেটাতে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।





