জ্বালানি সাশ্রয়ে গাড়ির বহরের আকার কমানোর সিদ্ধান্ত মোদির

নরেন্দ্র মোদি
বিদেশে এখন
0

বৈশ্বিক সংকটের কারণে প্রতিদিন ভারতের সরকারি তেল কোম্পানিগুলোকে অন্তত এক হাজার কোটি রুপি লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ কথা জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ে এবার নিজ গাড়ির বহরের আকার ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্ষেত্রে পেট্রোল-ডিজেলচালিত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের উপর জোরও দেয়া হয়। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পর একই পথে হাঁটতে যাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজ্য সরকার।

পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, সোনা, তামা, রাসায়নিক সার— এই পণ্যগুলির একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় ভারতকে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপে এসব পণ্যগুলি ব্যবহারে সম্প্রতি সংযমী হওয়ার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তবে শুধু অনুরোধই নয় বরং জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে মোদি নিলেন এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এবার নিজ গাড়ি বহরের আকার ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি নিশ্চিত করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। এতে বলা হয়, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির কাছে এ বিষয়ক নির্দেশ গিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে এ নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।

তবে পেট্রল-ডিজেলচালিত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের উপর জোরও দেয়া হয়। অবশ্য এ জন্য নতুন কোনও গাড়ি এখন কেনা যাবে না বলে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় এই নির্দেশনায়। এদিকে, কেন্দ্রের একটি সূত্রের বরাত আনন্দবাজার বলছে, নির্দেশ হাতে পাওয়ার পরেই তা বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে এসপিজি।

আরও পড়ুন:

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবসহ বিভিন্ন রাজ্য সরকার তাদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উদ্ভূত এ পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেছেন, বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি করে সরকারি খাতের তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে গুনতে হচ্ছে দৈনিক ১ হাজার কোটি টাকার লোকসান। তবে জ্বালানি আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

ভারতে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি এবং ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত আছে। তবে আর্থিক পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যাবে, আমাদের তেল কোম্পানিগুলো প্রতিদিন ১ হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনছে। এই অবস্থা কোম্পানিগুলো আর কতদিন সহ্য করতে পারবে?

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ই মে থেকে পাম্পে জ্বালানির নতুন মূল্য ঘোষণার কথা জানিয়েছে কিউবার অর্থ ও মূল্য নির্ধারণ মন্ত্রণালয়। তবে সরকারের এমন ঘোষণায় সবকিছুরই দাম বাড়বে বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন দেশটির মানুষ।

তাহলে তো সবকিছুর দামই বাড়ছে। দেখা যাক আমরা এই চাহিদাটা পূরণ করতে পারি কি না, কারণ দাম যদি খুব বেশি বেড়ে যায়, অর্থনীতি তা সামলাতে পারবে না।

এছাড়া অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকটের জেরে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পেজের পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলিভিয়া। সার দেশে ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছে বিক্ষোভকারীরা।

ছয় মাসে সরকার কোন প্রতিশ্রুতি পূরণ করে নি বরং ঋণ বেড়েছে। তারা ব্যর্থ হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এই দেশের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

গত ২ মে বলিভিয়ার বেতন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের উন্নতির দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেয় দেশটির প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন- বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল। তবে চলমান এই ধর্মঘটের পেছনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইভো মোরালেসের মতাদর্শীরাই দায়ী বলছে সরকার পক্ষ।

এফএস