ওয়াশিংটন ত্যাগের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ইস্যুতে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। শান্তি বা অন্য যেকোনো পথেই হোক, আমরাই জিতবো।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করছে। এরইমধ্যে ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে ওই পথ দিয়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে তেহরান।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই নৌপথের তদারকি করে ইরান তাদের তেল বিক্রির চেয়ে দ্বিগুণ আয় করতে পারে, যা তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি চললেও শান্তি চুক্তির শর্ত নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনো দুই মেরুতে অবস্থান করছে। ইরানের দেয়া শর্তগুলোকে ট্রাম্প ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে চীনের একটি সুপারট্যাঙ্কার বুধবার ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি ওই পথ দিয়ে কোনো চীনা জাহাজের তৃতীয় যাতায়াত। বেইজিং ইরানের তেলের বড় ক্রেতা এবং তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, কোনো দেশ যেন এই পথে ‘টোল’ আদায় করতে না পারে—সে বিষয়ে গত মাসেই চীনের সঙ্গে তাদের ঐকমত্য হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দিলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকানদের অর্থনৈতিক কষ্ট তার সিদ্ধান্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে না। তিনি বলেন, ‘আমি আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবছি না। আমার মাথায় কেবল একটিই চিন্তা—ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া যাবে না।’
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৩৯ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমতে পারে। এই সংকটের মধ্যেই বুধবার লেবাননের বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় দুই শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন, যা চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।





