শুরুতে এই প্রকল্পের জন্য ১৭৫ কোটি ডলারের কথা বলা হলেও সিবিও বলছে, শুধু মহাকাশভিত্তিক সেন্সর ও ইন্টারসেপ্টর লেয়ার কিনতেই খরচ হবে ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি। ব্যয়ের বিশালতা ছাপিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এর কার্যকারিতা নিয়ে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের পূর্ণমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা এই ‘গোল্ডেন ডোম’-এর নাও থাকতে পারে।
গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার কয়েক দিন পরই ট্রাম্প এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ঘোষণা দেন। তিনি একে ‘আমেরিকার জন্য আয়রন ডোম’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভূমি, সমুদ্র ও মহাকাশভিত্তিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি মহাকাশ থেকে আসা হামলাও এটি রুখে দিতে পারবে। ইতিমধ্যে স্পেসএক্স এবং লকহিড মার্টিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রকল্পের প্রোটোটাইপ তৈরির জন্য ৩২০ কোটি ডলারের প্রাথমিক চুক্তি পেয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে এই ব্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক সিনেটর জেফ মের্কলি এই প্রকল্পকে ‘প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের জন্য পকেট ভরার সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ আমেরিকানদের ট্যাক্সের টাকায় এই বিলাসিতা অযৌক্তিক।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল ভূখণ্ডের জন্য শতভাগ নিশ্ছিদ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা কারিগরিভাবে অত্যন্ত জটিল। শত্রুপক্ষের হাইপারসনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের এই ব্যবস্থার সক্ষমতা শেষ পর্যন্ত কতটুকু থাকবে, তা নিয়ে ঘোর সংশয় প্রকাশ করেছে সিবিও।





