১৯৭৬ সালে কঙ্গোর ইবোলা নদীর অববাহিকায় প্রথম শনাক্ত হয় প্রাণঘাতী এক ভাইরাস। পরবর্তীতে এই নদীর নামেই এই ভাইরাসটির নাম রাখা হয় ইবোলা। বাদুড় বা বানরের সংস্পর্শ ছাড়াও যা ছড়াতে পারে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ত, লালা, বমি থেকে। আর ভাইরাসটি এতটাই ভয়াবহ যে সময়মত চিকিৎসা না মিললে ৯০ শতাংশ রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
সবশেষ গেল ডিসেম্বরের পর আবারও মধ্য আফ্রিকার দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। যা দেশটিতে ইবোলার ১৭তম সংক্রমণ। তবে সবচেয়ে আশঙ্কার কথা এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হওয়ার ৬টি স্ট্রেইনের মধ্যে কঙ্গোতে ছড়িয়েছে বুন্দিবুগিও নামের নতুন এক ধরন, যার কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি।
কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের স্বর্ণখনি সমৃদ্ধ শহর মংওয়ালু ও রাওয়াম্পারায় নতুন করে ইবোলার এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। প্রথম রোগী ছিলেন একজন নার্স, যিনি গত ২৪ এপ্রিল উপসর্গ নিয়ে প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে পূর্বাঞ্চলে অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও রক্তক্ষরণকারী জ্বরে আক্রান্ত প্রায় ২৫০ জন রোগীর শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আর বেসরকারি হিসাবে কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩শ ছাড়িয়েছে। এছাড়া সরকারি হিসাবে, শনিবার পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেছে অন্তত ৮০ জনের। ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ইতুরি প্রদেশের সঙ্গে উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত থাকায় খনি শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় কঙ্গো থেকে আসা এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে এই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা জানিয়েছেন, ইবোলার নতুন স্ট্রেইন বুন্দিবুগিও'র সংক্রমণের হার অত্যন্ত ব্যাপক, তাই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা বলেন, নতুন করে ছড়িয়ে পরা ইবোলা ভাইরাসের স্ট্রেইনে বুন্দিবুজিও। উগান্ডায় এই স্ট্রেইনের সংক্রমণ হতে দেখেছি। ২০১২ সালে কঙ্গোর ইসিরো এলাকায় এই স্ট্রেইনের সংক্রমণের ফলে মহামারি দেখা যায়। আমাদের দল আক্রান্ত রোগীদের খুঁজে বের করে তাদের তথ্য সংগ্রহ করছে।
এমন সংকটে আফ্রিকান সিডিসির সঙ্গে যৌথভাবে ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকা, বিশেষ করে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারি দেখা দেয়, প্রাণ যায় ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের। আর ভাইরাস আবিষ্কৃত হওয়ার পর আফ্রিকায় গেল ৫০ বছরে ইবোলায় প্রাণহানি ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।


 coalition ride on the back of a pickup truck in Kidal-320x167.webp)


