আমিন আব্দুল্লাহ। ছবির মতো সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারের শতাধিক শিশুর প্রাণ বাঁচাতে হাসি মুখেই বন্দুকধারীদের সঙ্গে লড়াই করেন তিনি। একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে শিশুদের প্রাণ বাঁচানো আমিন আব্দুল্লাহ'র বীরত্ব এখন ক্যালিফোর্নিয়ার সবার মুখে মুখে।
তাইতো প্রিয় পিতার মৃত্যুতে শোকাহত হলেও, তার অসীম সাহসিকতাকে প্রতি সম্মান জানান মেয়ে হাওয়া আব্দুল্লাহ। প্রাণ হারানো আমিন আব্দুল্লাহকে পৃথিবীর সেরা বাবা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিহত আমিন আব্দুল্লাহর মেয়ে হাওয়া আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ একটি বন্ধ করে দিলে আরেকটি পথ খোলা রাখে। বাবা আমাদের পাশে না রাখলেও অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। তারা সমর্থন জানাচ্ছে। আল্লাহর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
আরও পড়ুন:
এদিকে, হামলার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই কিশোরের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে এফবিআই। তদন্ত সংস্থাটি বলছে, দুই বন্দুকধারীর পরিচয় অনলাইনে। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের প্রতি তাদের ব্যাপক ঘৃণা ছিল বলেও জানিয়েছে এফবিআই। এছাড়াও কর্তৃপক্ষ বন্দুকধারীদের লেখা একটি বিদ্বেষমূলক বার্তা উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে দুটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মূলত সোমবার ঘটনা ঘটনার ২ ঘণ্টা আগে জড়িত এক বন্দুকধারীর মা পুলিশের কাছে আত্মহত্যা প্রবণ সন্তান পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন। সেসময় তার বাড়িতে থাকা অস্ত্র ও গাড়ি নিখোঁজ ছিল। পুলিশ জানায়, অভিযোগ পেয়ে বন্দুকধারীর বাড়িতে তল্লাশি ও তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাঝেই ইসলামিক সেন্টারে গুলির শব্দ শোনা যায়।
সোমবার পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকার ইসলামিক সেন্টারে সমবেত হচ্ছিলেন মুসল্লিরা। ঠিক তখনই আকস্মিক গুলির শব্দে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় চারপাশের শান্তি। মসজিদ প্রাঙ্গণেই অবস্থিত বেসরকারি মুসলিম স্কুল 'ব্রাইট হরাইজন অ্যাকাডেমির লোয়ার ক্যাম্পাসে ক্লাস করছিল শতাধিক কোমলমতি শিশু।
খবর পেয়ে মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত কয়েক ডজন পুলিশ ও সোয়াট টিম। চারপাশ ঘিরে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম গতিশীল ও শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযান। পরে পুলিশের তাড়া খেয়ে এবং পালানোর পথ না পেয়ে ১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই হামলাকারী আত্মহত্যা করে।





