নেতানিয়াহু সব সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বড়াই করলেও সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের প্রতি অতিনির্ভরশীলতার কারণে তিনি এখন মার্কিনি ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছেন। ফোনালাপে ট্রাম্প বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে নেতানিয়াহুকে ব্রিফ করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ‘আগ্রহপত্র’ সই করবে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়াসহ পরবর্তী ৩০ দিনের জন্য আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে।
তবে নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধী। ইসরাইলি সূত্রের খবর, ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহু অত্যন্ত বিচলিত ছিলেন এবং তার ‘মাথায় আগুন জ্বলছিল’। তিনি মনে করেন, আলোচনার চেয়ে বরং সামরিক চাপ অব্যাহত রেখে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়া উচিত। অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন, ‘তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না এবং রক্তপাত এড়াতে আলোচনার জন্য কয়েক দিন সময় দিতে রাজি আছেন।’ তবে ইরানের কাছ থেকে শতভাগ ইতিবাচক উত্তর না পেলে ‘খুব দ্রুত’ ভয়াবহ ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস গতকাল (বুধবার, ২০ মে) ট্রাম্পকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা চালায় তবে তার পরিণতি হবে বিধ্বংসী। এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, ‘যদি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এই আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূরে বিস্তৃত হবে। আমাদের বিধ্বংসী আঘাতে আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রু চূর্ণ হয়ে যাবে।’ তারা আরও দাবি করেছে, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুটি সেনাবাহিনী (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) সর্বশক্তি দিয়ে হামলা চালালেও ইরান এখনো তার পূর্ণ ক্ষমতা প্রদর্শন করেনি।
এমন উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার তেহরানে গিয়েছেন। পাকিস্তান ও কাতার বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মতভেদ দূর করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ হয়ে আছে।





