ভিডিওটিতে দেখা যায়, আশদোদ বন্দরে আটক নারী কর্মীদের সামনে দিয়ে হাঁটার সময় বেন-গিভির নিরাপত্তা কর্মীদের তাদের মুখ চেপে ধরতে উৎসাহ দিচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি হাত বাঁধা অবস্থায় মাটিতে বসে থাকা কয়েক ডজন কর্মীর সামনে ইসরাইলের পতাকা উড়িয়ে হিব্রু ভাষায় বলেন, ‘ইসরাইলে স্বাগতম। আমরাই এখানকার মালিক।’ এমনকি নৌকার ওপর হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় থাকা কর্মীদের সামনে ইসরাইলের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
বেন-গিভিরের এই আচরণকে ‘ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার একে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই আচরণকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়েছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইতালি ও স্পেনও এই ঘটনায় ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
চরম অস্বস্তিতে পড়া ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনার সমালোচনা করে বলেছেন, বেন-গিভির যা করেছেন তা ‘ইসরাইলের মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’। তবে নেতানিয়াহু একই সঙ্গে গাজাগামী ওই নৌবহরকে ‘সন্ত্রাসীদের সমর্থক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারও তার নিজের মন্ত্রিসভার এই কলিগের সমালোচনা করে বলেন, ‘বেন-গিভির জেনে বুঝে রাষ্ট্রকে বিশ্ববাসীর সামনে হেয় করেছেন।’
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক এই নৌবহরটি তুরস্ক থেকে ৫৩টি নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। গত সোমবার সাইপ্রাস উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি নৌবাহিনী অভিযান চালিয়ে ৪৩০ জন কর্মীকে আটক করে। আয়োজকদের দাবি, ইসরাইলি কমান্ডোরা নৌকায় পানি ছিটিয়ে এবং রাবার বুলেট ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে। গাজার ২১ লাখ মানুষ যখন অনাহার ও ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তখন এই কর্মীরা প্রতীকী ত্রাণ নিয়ে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ইসরাইল শুরু থেকেই এই মানবিক প্রচেষ্টাকে ‘হামাসের পিআর স্ট্যান্ট’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।





