ট্রাম্প আমলে ব্যক্তি-নির্ভর হচ্ছে মার্কিন কূটনীতি: রয়টার্স

প্রতীকী ছবি
বিদেশে এখন
0

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন কূটনীতি ক্রমেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছেড়ে ব্যক্তি-নির্ভর হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইউরোপ ও এশিয়ার কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে বার্তা সংস্থাটি বলছে, ট্রাম্পের হঠাৎ হুমকি, ফাঁকা থাকা বহু রাষ্ট্রদূত পদ এবং দুর্বল হয়ে পড়া দূতাবাসগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রকৃত অবস্থান বুঝতে মিত্র দেশগুলোকে এখন বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ১৯৫টি মার্কিন রাষ্ট্রদূত পদের মধ্যে ১০৯টিই এখন শূন্য। পররাষ্ট্র দপ্তরে গত বছর প্রায় ৩ হাজার কর্মী চাকরি ছেড়েছেন বা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেক দূতাবাস এখন পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূতের বদলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে চলছে। এর ফলে ইরান যুদ্ধ বা ইউক্রেন সংকটের মতো স্পর্শকাতর সময়ে মিত্র দেশগুলো ওয়াশিংটন থেকে স্পষ্ট বার্তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই শূন্যতা পূরণে বিদেশি সরকারগুলো এখন হোয়াইট হাউসের ভেতরে ট্রাম্পঘনিষ্ঠ অল্প কয়েকজনের ওপর নির্ভর করছে। প্রতিবেদনে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের নাম বিশেষভাবে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ কয়েকটি দেশও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেল এড়িয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। অনেক মিত্র দেশ আবার ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিয়ে ‘পটভূমির শব্দ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সমালোচনা মানছে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, এসব পরিবর্তনে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ব্যক্তি-নির্ভর এই কূটনীতি দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

এএম