আজ (বুধবার, ৩ জুন) ভোরের দিকে বেশ কিছু দূরপাল্লার ড্রোন সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল মজুত কেন্দ্রে আছড়ে পড়ে। রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করতে ব্যর্থ হয়। হামলার পর শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং একটি তেলের টার্মিনাল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানান, কির্ভস্কি ও ক্রাসনসেলস্কি জেলা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের ক্রনস্ট্যাড নৌঘাঁটি এবং শিপইয়ার্ডেও আঘাত হেনেছে, যা রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। সেখানে রুশ যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এই হামলাটি ক্রেমলিনের জন্য বিশেষ বিব্রতকর কারণ এটি অর্থনৈতিক ফোরামের মূল কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ১০ মাইল দূরে ঘটেছে। হামলার ফলে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর কারণে ফোরামে আগত অতিথিদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় অনেকে যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেননি। ১৩০টি দেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থী এই তিন দিনের সম্মেলনে যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যাকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সুইজারল্যান্ডের ‘দাভোস’-এর বিকল্প হিসেবে অভিহিত করা হয়। অতিথিদের তালিকায় জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডার এবং পুতিন সমর্থক মার্কিন অভিনেতা স্টিভেন সিগাল রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রডনি মিমস কুক জুনিয়রের নেতৃত্বে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলাকে ইউক্রেনের ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’র সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের নিখুঁত লক্ষ্যভেদের কারণে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সেন্ট পিটার্সবার্গের এই তেলের টার্মিনালটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার (৬৮০ মাইল) দূরে অবস্থিত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে আকাশপথে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তাদের দূরপাল্লার ড্রোনগুলো নিয়মিতভাবে রাশিয়ার বন্দর, তেল মজুত কেন্দ্র, সামরিক কারখানা এবং বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানছে। এর ফলে দক্ষিণ ইউক্রেন ও ক্রিমিয়ার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এক সময় রাশিয়া এই ফোরামকে পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার কাজে ব্যবহার করত। কিন্তু ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসনের পর থেকে অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এটি বর্জন করছে। বর্তমানে ক্রেমলিন এই আয়োজনে মূলত উজবেকিস্তান ও তানজানিয়ার প্রেসিডেন্টসহ কিউবা, বেলারুশ এবং সৌদি আরবের মন্ত্রীদের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিভ এই ফোরামকে ‘সার্বভৌম দেশগুলোর’ মিলনমেলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





