মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে বরাবরই শিরদাঁড়া উঁচু রেখেছে লেবানন। গাজা কিংবা ইরান যুদ্ধ। প্রতিবারই শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়াতে চিন্তা করেনি একচুল। দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দিতে তৎপর।
গেলো কয়েকদিন ধরেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আগ্রাসনের মাত্রা তীব্র করেছে ইসরাইল। বিউফোর্ট দুর্গ দখলের পর বৈরুতে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। ঘোষণা দেন, লেবাননে কয়েকটি শহরে হামলা করার।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে লেবানন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথাকে ভালোভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স। এ নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
আরও পড়ুন:
সেখানে বলা হয়, ১৯৪৩ সালে স্বাধীনতার আগে ফরাসিদের দখলে ছিলো লেবানন। তাই লেবাননের যেকোনো ক্রান্তিকালে স্বতঃস্ফূর্ত এগিয়ে আসে ফরাসি সরকার। ইসরাইল-লেবানন সংঘাত বন্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। এছাড়াও সোমবার ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানায় প্যারিস।
তবে লেবানন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রহকে ভালোভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈরুতে পুনরায় প্রভাব বিস্তার করতে চায় দেশটি। তাই কূটনৈতিক আলোচনা থেকে শুরু করে বিনিয়োগেও আগ্রহের কমতি নেই ইমানুয়েল ম্যাক্রোর। কারণ, প্যারিসের ধারণা-লেবানন ফ্রান্সের জন্য একটি কৌশলগত ঘাঁটি।
২০২০ সালে বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের সময় জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া দেয়া হয় বড় অংকের প্রণোদনা প্যাকেজ। গেলো মে'তে লেবাননের বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য দেয়া হয়েছে ১৯০ লাখ ডলার সহায়তা।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, কৌশলগতভাবে লেবাননকে ব্যবহার করে পূর্ব-ভূমধ্যসাগরে প্রভাব বিস্তার করতে চায় ফ্রান্স। সেই উদ্দেশ্যেই মূলত বৈরুত নিয়ে ফরাসিদের বাড়াবাড়ি।





