ইরান শুরু থেকেই লেবাননে যুদ্ধবিরতিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে গণ্য করে আসছে। তেহরান সম্প্রতি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, ইসরাইল যদি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে বা আরও বাড়ায়, তবে তারা সরাসরি হিজবুল্লাহর পক্ষে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছিলেন, সব পক্ষ সম্মত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম ওয়াশিংটনের ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘প্রতিরোধ লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবানন সরকারের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ সরাসরি কোনো পক্ষ না থাকলেও তাদের হামলা বন্ধ করা ছিল চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু হিজবুল্লাহর এই প্রত্যাখ্যানে পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে গেলো। এদিকে বৃহস্পতিবারও দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, তারা এখনই লেবানন থেকে সেনা সরাবেন না বা সামরিক অভিযানও বন্ধ করবেন না।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান জানিয়েছেন, ‘প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ন্যূনতম দাবি’ হলো যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ইসরাইলি বাহিনীকে ফিরে যেতে হবে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আঞ্চলিক এই যুদ্ধে আমাদের প্রধান শর্তই ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি।’ তেহরান দাবি করেছে, ইসরাইলকে অবশ্যই লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দখলকৃত এলাকাগুলো ছেড়ে আন্তর্জাতিক সীমান্তের পেছনে ফিরে যেতে হবে।
এপ্রিলের শুরু থেকে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরানে বড় ধরনের মার্কিন-ইসরাইলি বোমাবর্ষণ বন্ধ থাকলেও গত বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইরানি বাহিনী কুয়েত বিমানবন্দরে হামলা চালালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে পাল্টা হামলা চালায়। বিশ্ববাজারের তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়, যা যুদ্ধের কারণে তিন মাস ধরে প্রায় বন্ধ রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছেন। বুধবার তিনি ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহান্তেই হয়তো বড় কোনো অগ্রগতি হতে পারে।’ তবে ইরান কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং বিদেশে আটকে থাকা তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব ব্যবহারের সুযোগ এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) বৃহস্পতিবার সদস্য দেশগুলোর কাছে এক প্রতিবেদনে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে এবং পুনরায় পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শনের অনুমতি দিতে জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা হলেও তেহরান বারবার বলে আসছে তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।





