লেবানন সংকট: ইরানের চাপ ও ইসরাইলের শর্তের মাঝে কোণঠাসা বৈরুত

তেহরানের ভানক স্কোয়ারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও তলোয়ার সংবলিত একটি বিশাল রাজনৈতিক বিলবোর্ড
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো বৃহত্তর চুক্তিতে লেবানন ইস্যুকে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। ভূমধ্যসাগরে তাদের শেষ প্রভাবের ঘাঁটি হিসেবে লেবাননকে ধরে রাখতে মরিয়া তেহরান। এই অবস্থানের সাথে সরাসরি সংঘর্ষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরাইল আলোচনার, যার লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাতের সমাপ্তি ঘটানো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তবে লেবানন পিছু হটতে নারাজ। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বুধবার রয়টার্সকে বলেন, 'লেবাননের ভবিষ্যৎ লেবানিদের হাতে, ইরান বা ইসরাইলের হাতে নয়।' তিনি বলেন, 'ইরানের সাথে সহযোগিতা এক বিষয়, কিন্তু তারা আমাদের কোনো নির্দেশ দিতে পারবে না। আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। ইরান আমাদের হয়ে কথা বলতে পারে না। আমরা মেনে নেব না যে লেবানন অন্যদের যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হোক।'

কিংস কলেজ লন্ডনের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, লেবানন ইরানের 'প্রতিরোধের বয়ানের কেন্দ্রভূমি'। লেভান্ট জুড়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রাথমিক ফ্রন্টলাইন হিসেবে এটি কাজ করে। ২০২৪ সালের শেষে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর লেবানন ইরানের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি সপ্তাহে বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে হামলার প্রতিশোধে ইরান সরাসরি ইসরাইলে আঘাত হেনেছে। হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধে এটিই তেহরানের প্রথম সরাসরি হস্তক্ষেপ। এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা বা শিয়া এলাকায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অনড়। এই বার্তা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটনের আলোচনায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। লেবানন চাইছে টেকসই যুদ্ধবিরতি, পূর্ণ ইসরাইলি প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন। ইসরাইল চাইছে অন্তত দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়া এবং তার প্রমাণ।

লেবাননের দুই কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহের এক বৈঠকে পাঁচ ঘণ্টা আলোচনার পর লেবানিজ আলোচকরা অনুভব করেন যে ইসরাইল কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। প্রধান আলোচক সাইমন কারাম মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে কক্ষ ছেড়ে যান। পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সরাসরি হস্তক্ষেপে বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। তারপর যে প্রস্তাব আসে তাকে কর্মকর্তারা 'শেষ মুহূর্তের গ্রহণ করো নয়তো ছেড়ে দাও' প্রস্তাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এটিকে 'ইসরাইলের শর্তের কাছে আত্মসমর্পণ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে পরিচিত এক লেবানিজ সূত্র বলেছেন, ওয়াশিংটনের আলোচনার কোনো ফল আসবে না। প্রকৃত আলোচনা শুরু হবে তখনই, যখন ইরান-মার্কিন চুক্তি থেকে যুদ্ধবিরতি আসবে।

লেবানন এখন ইসরাইলের চাপ এবং ইরানের সংকল্পের মাঝে নতুন একটি পথ বের করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতির অচলাবস্থা দক্ষিণ লেবাননে একটি নতুন বাস্তবতা স্থায়ী করতে পারে, যা সেখানে ব্যাপক শিয়া জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন ঠেকিয়ে দিতে পারে।

এএম