সদ্য অবমুক্ত হওয়া কিছু গোপন নথির বরাত দিয়ে গ্যাবার্ড বলেন, ‘এসব মার্কিন অর্থায়িত বায়োল্যাবের অস্তিত্ব, ইতিহাস, অবস্থান ও অর্থায়ন সংক্রান্ত তথ্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন।’ তিনি বলেন, যারা এসব ল্যাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের প্রায়ই বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গ্যাবার্ডের মতে, এই গবেষণাগারগুলো জনসমক্ষে কোনো স্বচ্ছতা বা তদারকি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
২০২৫ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে গেইন-অব-ফাংশন গবেষণায় মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন, তার গুরুত্ব তুলে ধরেন গ্যাবার্ড। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের ওপর বিপজ্জনক গেইন-অব-ফাংশন গবেষণার ভয়াবহ হুমকি বুঝতে পেরেছিলেন।’ এছাড়া তিনি রাজনীতিবিদ, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে ল্যাবগুলোর বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তোলেন। এই ক্ষেত্রে তিনি হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
প্রকাশিত নথিতে ইউক্রেনের ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় ইউক্রেনের ৪০টির বেশি ল্যাবরেটরি সহায়তা পেয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় অন্তত একটি ল্যাবরেটরিতে বিপজ্জনক জীবাণু মজুত ছিল, যা আক্রমণ বা দখলের ঝুঁকিতে ছিল। গ্যাবার্ড জানিয়েছেন, বিদেশি গবেষণাগারগুলো শনাক্ত করা এবং সেগুলোতে থাকা জীবাণু ও কার্যক্রমের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তুলসি গ্যাবার্ড হাওয়াইয়ের সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য এবং ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিক। ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেন। স্বামীর ক্যানসার ধরা পড়ায় তিনি গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং চলতি মাসের শেষের দিকে তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা রয়েছে।





