বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বাধা রয়েছে—নিরাপত্তা শঙ্কা, সমুদ্রমাইন এবং শুল্ক নিয়ে বিতর্ক। তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে উপসাগরের ভেতরে ২৫০টির বেশি ট্যাঙ্কার এবং ৩৩০টির বেশি পণ্যবাহী জাহাজ অলস বসে আছে। অনেক জাহাজ সৌদি আরব, ইরাক ও আমিরাতের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনালের কাছে অবস্থান করছে।
ইওএস রিস্ক গ্রুপ–এর বিশ্লেষক মার্টিন কেলি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জলপথ পাড়ি দিতে একজন ক্যাপ্টেনকে অত্যন্ত সাহসী হতে হবে।’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালিয়েছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রও ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে ৯টি জাহাজকে অকেজো করে দেয়। যদিও ট্রাম্প অবরোধ তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তবে তিনি পরে জানিয়েছেন যে চুক্তি সই হওয়ার আগ পর্যন্ত অবরোধ বহাল থাকবে। ১৫ জুনের স্যাটেলাইট ছবিতেও ওমান সাগরের প্রবেশপথে চারটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পাহারায় থাকতে দেখা গেছে।
দ্বিতীয় বড় বাধা হলো মাইনের ভয়। ইরানের পক্ষ থেকে আগেই হুমকি দেয়া হয়েছিল যে তাদের ওপর হামলা হলে তারা সাগরে মাইন ছড়িয়ে দেবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে ইরান হরমুজের বড় অংশে মাইন পেতে রেখেছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও) বলছে, মাইন অপসারণ না করা পর্যন্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাইন পরিষ্কার করতে ৩০ দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইতিমধ্যে এই কাজে সহায়তা করতে ওই অঞ্চলে জাহাজ পাঠিয়েছে।
তৃতীয় বিতর্কটি হলো শুল্ক বা টোল নিয়ে। ঐতিহাসিকভাবে হরমুজ একটি প্রাকৃতিক জলপথ হওয়ায় এতে চলাচলের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। কিন্তু ইরান এখন ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এই জলপথ ব্যবস্থাপনার দাবি তুলছে এবং ‘সেবা প্রদানের বিনিময়ে’ ফি আদায়ের কথা ভাবছে। ট্রাম্প অবশ্য ঘোষণা করেছেন যে প্রণালিটি ‘শুল্কমুক্ত’ হবে।
তবে তেহরান শেষ পর্যন্ত জাহাজগুলোকে আগের মতো অবাধে চলতে দেবে কি না, তা নিয়ে জাহাজ মালিকদের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে। আগামী শুক্রবার জেনেভায় চুক্তি সইয়ের পর এই কারিগরি বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে পারে।





