ফ্রান্স বাদে ন্যাটোর সব সদস্য দেশ এই এনপিজি’র অন্তর্ভুক্ত। জোটের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা এক বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ন্যাটোর কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনী মিত্রদের নিরাপত্তার সর্বোচ্চ গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ন্যাটোর পারমাণবিক সক্ষমতা আধুনিকায়ন এবং নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় জোটের পারমাণবিক প্রতিরোধ মিশন আরও শক্তিশালী করতে মন্ত্রীরা সম্মত হয়েছেন।
এদিকে ব্রাসেলসে ন্যাটো প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইউরোপে মার্কিন সেনার উপস্থিতি পর্যালোচনা করবে পেন্টাগন। ইরান যুদ্ধের সময় কিছু ইউরোপীয় দেশ মার্কিন বাহিনীর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল লজ্জাজনক। তারা আমেরিকার সন্তানদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এর কোনো অজুহাত হতে পারে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ২০২৬ সালে ন্যাটোর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা ব্যয়ে ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণ নির্ভর করবে মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর। হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নেবে না, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবদান কমে যাবে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, ইউরোপ ও কানাডা ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় প্রতিরক্ষা খাতে ৯ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করছে, যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে ওয়াশিংটন চায় ইউরোপ তার নিজস্ব প্রথাগত প্রতিরক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করুক, যাতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের দিকে বেশি মনোনিবেশ করতে পারে।
ইতোমধ্যে পেন্টাগন ন্যাটো অপারেশনের জন্য বরাদ্দ করা বিশ্বব্যাপী সম্পদের পরিমাণ কমিয়ে আনার কথা জানিয়েছে। মার্কিন ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ন্যাটোতে নিয়োজিত ১৫০টি মার্কিন এফ-১৬ ও এফ-১৫ জেটের এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহার করা হতে পারে। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, ড্রোন এবং একটি বিমানবাহী রণতরিও সরিয়ে নেয়া হতে পারে। জার্মানি এই দ্রুত সম্পদ প্রত্যাহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এর ফলে ইউরোপের নিরাপত্তা সাময়িকভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।





