ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন উপকূলে ন্যাটোর মহড়া

নরওয়েজীয় ফ্রিগেট থেকে একটি নৌ-তল্লাশি দল
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনা উপকূলের আটলান্টিক মহাসাগরে যখন ন্যাটোর যুদ্ধজাহাজগুলো মহড়া দিচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে চরম টানাপোড়েন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৭৭ বছরের পুরনো এই সামরিক জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সামরিক পর্যায়ে ন্যাটোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই মহড়ায় রয়টার্সকে একচেটিয়া প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়। মহড়া চলাকালে নরওয়েজীয় লেফটেন্যান্ট থমাস জোহানসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল সন্দেহভাজন একটি জাহাজে তল্লাশি অভিযান চালায়। উত্তর ক্যারোলিনা উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ব্রিটিশ কমোডোর মারিলা ইনঘামের কমান্ডে ‘স্ট্যান্ডিং ন্যাটো মেরিটাইম গ্রুপ ওয়ান’ এই মহড়ায় অংশ নেয়। এতে নরওয়ে, জার্মানি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও তুরস্কের যুদ্ধজাহাজ এবং স্প্যানিশ ও ফরাসি নৌসেনারাও যোগ দিয়েছেন।

এই মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ন্যাটোর দূরত্ব বাড়ছে। গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ব্রিটেন, স্পেন, জার্মানি ও ফ্রান্সকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহায়তা না করার জন্য তিরস্কার করেছেন। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক বেশি খরচ বহন করতে হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন কমানোর বিষয়ে ছয় মাসের একটি পর্যালোচনা শুরু করেছেন।

এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে আকাশসীমা ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানানোয় স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিত করার একটি প্রস্তাবও পেন্টাগনে আলোচিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক এই অস্থিরতা মাঠপর্যায়ের সামরিক সম্পর্কে তেমন প্রভাব ফেলেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মহড়াগুলো অনেক আগে থেকেই পরিকল্পিত থাকে এবং মিত্রদের মধ্যে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

নরওয়েজীয় যুদ্ধজাহাজ ‘ফ্রিডটজফ ন্যানসেন’-এর কমান্ডার স্টিয়ান বুঙ্ক জানান, এটি মার্কিন জলসীমায় তার প্রথম মহড়া। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে আমরা এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া দিয়েছি, যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছিল।’ ব্রিটিশ কমোডোর মারিলা ইনঘাম বলেন, ‘আমরা যেমন আমাদের সক্ষমতা দেখাচ্ছি, তেমনি আমেরিকানদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার যোগ্যতাও প্রমাণ করছি।’ তবে পেন্টাগন যদি ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের যৌথ মহড়ার সুযোগ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এএম