মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার গতকাল (মঙ্গলবার, ৩০ জুন) কাতারে অবস্থান করছেন। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তারা এখানে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য আসেননি।’ যুক্তরাষ্ট্র মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল বা মাশুল আরোপের পরিকল্পনা এবং ওমানের প্রস্তাবিত নৌ পরিষেবা ফি সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাইছে।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকার কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টা এবং লেবানন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে তেহরানের বিরোধিতাকে দায়ী করা হচ্ছে। এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে জটিল আলোচনা শেষ করার কথা থাকলেও তা এখনো শুরু হয়নি, যা কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইরান তার দায়িত্ব সম্পর্কে অন্য যেকোনো পক্ষের চেয়ে ভালোভাবে অবগত এবং তা পালনে সক্ষম।’ ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের হাতে এবং সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মাত্র ৬০ দিনের জন্য বিনা মাশুলে জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকবে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও) হরমুজ প্রণালিতে ওমান উপকূল দিয়ে একটি বিকল্প সমুদ্রপথ চালুর বিষয়ে ইরানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য এই রুট চালুর প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। মেরিটাইম ট্র্যাকিং ফার্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ২৪টি জাহাজ থেকে বেড়ে সোমবার ৪০টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে হাজার হাজার নাবিক এখনো সাগরে আটকা পড়ে আছেন।





