ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার জ্বালানি খাত; বিপাকে কৃষকেরা

মস্কোর পেট্রোল স্টেশনে একটি ট্যাংকার ট্রাক
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ও ডিপোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে রাশিয়া। বিশেষ করে দেশটির শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চলের কৃষকেরা সময়মতো ফসল কাটা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। যুদ্ধের রসদ বন্ধ করতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে যে কৌশল নিয়েছে, তাতে তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে এখন হাহাকার শুরু হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব রাশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে। তেলের পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা দিচ্ছে এবং অনেক জায়গায় তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি ও মারামারির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনলাইনে ‘কীভাবে তেল চুরি (সাইফন) করতে হয়’—তা নিয়ে সার্চের হার বহুগুণ বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি তার ঘাস কাটার যন্ত্রে পেট্রোল ঢালার সময় বলছেন, এটি এখন ‘বিলাসদ্রব্য’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত রোববার এই সংকটের কথা স্বীকার করেছেন এবং বাজার স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে কৃষিখাতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এই সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া সাগরপথে ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে এবং কাজাখস্তান থেকেও আগামী দুই মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন তেল আমদানির বিষয়ে সমঝোতা করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই জ্বালানি সংকট যুদ্ধের প্রতি রাশিয়ার সাধারণ মানুষের সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে। দেশটির বেশ কিছু অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের কারণে বাস চলাচল এবং আবর্জনা সংগ্রহের কাজও বন্ধ রাখতে হয়েছে। রোস্তভ-অন-ডন শহরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘পেট্রোলের জন্য যে পাগলামি চলছে, তাতে আমি এখন ভাবছি পায়ে হেঁটেই কাজে রওনা দেব কি না।’

এএম