রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের বক্তব্যে সুরের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাশিয়ার জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক ভ্লাদিমির সোলোভিয়ভ মধ্য জুনে বলেছেন, ‘আমাদের এখন কঠিন সময় ও আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’ কিছু সামরিক ব্লগার তাদের বিশ্লেষণে বৃহত্তর পরিসরে সেনা সমাবেশের (মোবিলাইজেশন) কথাও উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ইউক্রেনের নতুন প্রযুক্তি ও কৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে রাশিয়ার আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।
সম্ভাব্য সেনা সমাবেশের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তুলার দুই সন্তানের মা কেসেনিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে সেনাবাহিনীতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে, এই আশঙ্কায় আছি। কিন্তু তাকে বিদেশে পাঠানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।’ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত ২৮ জুন এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, দেশে জ্বালানির কিছুটা ঘাটতি থাকলেও তা গুরুতর নয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা কিছু সমস্যার সৃষ্টি করছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার নতুন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিন বলেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে রাশিয়ার আরও বেশি সংখ্যক পান্তসির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে এই মুহূর্তে তা যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করা কঠিন। ফলে সামনের দিনগুলোতেও ইউক্রেনের এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাশিয়াও তাদের পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। চলতি সপ্তাহে রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। কিয়েভের বাসিন্দা ভিতালি ইয়ারোখনোর ভবনের কাছে বৃহস্পতিবার একটি ইসকান্দার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে তার দুটি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং অ্যাপার্টমেন্টের আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে ভাগ্যক্রমে পরিবারের সবাই অক্ষত রয়েছেন। ওয়াশিংটনের জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষক পাভেল লুজিন মনে করেন, বর্তমান যুদ্ধ কৌশলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত পার্থক্যই মূল ভূমিকা পালন করছে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক চাপ ও বাজেট ঘাটতিও সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে বলে মনে করেন তিনি।





