যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই আবারও উস্কানি মূলক বক্তব্য দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওয়াশিংটনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সাথে হয় চুক্তি হবে নতুবা দেশটিকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেয়া হবে। তবে চুক্তিকেই বেশি প্রাধান্য দেন বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। যদিও এটা দেশটির শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। তবে তা চাইছি না। দেশটির প্রথম ও দ্বিতীয় শাসনব্যবস্থা চলে গেছে। তবে তৃতীয় শাসনব্যবস্থাটি আরও যুক্তিসঙ্গত। তা অবশ্য পরে জানা যাবে।’
তবে ট্রাম্পে এমন গড়পড়তা হুমকি ভালোভাবে নেয়নি ইরান। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এ বিষয়ে এক পোস্টও দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বলেন, ওয়াশিংটনের হুমকি অব্যাহত থাকলে তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে না।
আরও পড়ুন:
এসময় আরাঘচি আরও জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর ধারাটি স্পষ্ট। পাশাপাশি অপর পক্ষ যেন তাদের স্বাক্ষরকে সম্মান জানায় সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখারও কথা বলেন তিনি।
উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এক্সিওস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী- আইআরজিসি। তবে এতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়া, ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা-ইউকেএমটিও জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ওমানের লিমাহর পূর্বে একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের এক আইনপ্রণেতা। এমনিক দেশটির সাথে সমন্বয় ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো পদক্ষেপ ব্যর্থ হতে বাধ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ডেটা ট্র্যাকিং কোম্পানি কেপলার জানিয়েছে, গেল ৩ থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ১০৮টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে। সপ্তাহব্যাপী হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্থিতিশীলতা দেখা গেছে।





