ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিনিয়োগকারীদের সংশয় কাটবে কি?

ফুজাইরাহ বন্দরে মাছ ধরার জালের আড়ালে একটি জাহাজ
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দিতে পারে। গত ১৭ জুন সই হওয়া এই চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং দেশটির পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা) একটি বিশাল তহবিল গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহায়তায় এই তহবিল পরিচালিত হবে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে প্রতিবেশী হিসেবে দেখার পাশাপাশি বড় বাণিজ্যিক সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে বলেন, ‘ইরানে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে।’ সৌদি আরবও ২০২৩ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পর দেশটিতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ভয়ে সেই বিনিয়োগ এতদিন আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান সমঝোতা স্মারকটি সেই বাধা দূর করার একটি কাঠামো তৈরি করেছে।

অবশ্য এই সমঝোতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো সংশয় কাজ করছে। অতীতে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক সরে আসার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর। ফলে নতুন চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে তারা সতর্ক। এছাড়া গত কয়েক মাসে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটিও বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।

বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে বড় বিনিয়োগ না এলেও ভোগ্যপণ্য, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্মাণ উপকরণের মতো খাতগুলোতে ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরাক ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের সঙ্গে ইরানের বিদ্যমান শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই সুযোগকে আরও ত্বরান্বিত করবে। তবে বড় আকারের আঞ্চলিক বিনিয়োগের জন্য তেহরানকে তার প্রতিবেশীদের এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, ভবিষ্যতে তারা আর কোনো আগ্রাসনে জড়াবে না।

এএম