সমঝোতা সই হওয়ার কয়েক দিন পর সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, এই চুক্তি সম্পর্কে তার ‘ভিন্ন মত’ ছিল, তবে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি দেশের অধিকার ও ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর স্বার্থ রক্ষা করবেন। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ‘স্পষ্টভাবে দায় স্বীকার করেছেন’।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আলোচনার নেতৃত্বদানকারী পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম ওই বিবৃতিতে ছিল না। অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, আলোচনার দায়িত্ব ‘নেজাম’ বা ব্যবস্থার পক্ষ থেকে গালিবাফকে দেয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সাফল্যের কৃতিত্ব গালিবাফের শিবিরের জন্য রেখে ব্যর্থতার দায় প্রেসিডেন্টের ওপর চাপানোর কৌশলই এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে প্রভাবশালী একটি শক্তি হলো সামরিক-বোনিয়াদ জোট, যেখানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বিপ্লব-পরবর্তী ধর্মীয় ফাউন্ডেশনগুলো প্রভাব বিস্তার করে। এই জোটের একটি অংশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পক্ষে, অন্য অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততাকেই বিশ্বাসঘাতকতা মনে করে।
আরও পড়ুন:
সমঝোতা স্মারকের অন্যতম প্রস্তাব ছিল ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল। গালিবাফপন্থী অংশের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া টেকসই নিরাপত্তা সম্ভব নয়। কিন্তু পায়দারি ফ্রন্টের মতো কঠোর আদর্শিক গোষ্ঠীগুলো এটিকে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের পথ বলে মনে করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানকে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল মূলত একটি ‘পরিচালনাযোগ্য’ মধ্যপন্থী মুখ হিসেবে, যিনি জনসমর্থন কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাবেন না। পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের মতো তার নিজস্ব শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক বা নিরাপত্তা প্রভাব নেই। ফলে তিনি শাসকগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
বর্তমানে সমঝোতা স্মারক টালমাটাল অবস্থায় থাকলেও প্রেসিডেন্টকে দায়ী করার কৌশল আপাতত কার্যকর রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারপন্থী ও স্থায়ী মুখোমুখি অবস্থানপন্থী দুই শিবিরের মধ্যে যে কাঠামোগত ফাটল তৈরি হয়েছে, তা কোনো এক ব্যক্তিকে দায়ী করে দীর্ঘদিন আড়াল রাখা সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে মূল লড়াই শাসকগোষ্ঠীর ভেতরেই হতে পারে।





