‘সর্বত্র তাইওয়ানকে চাপে রাখছে চীন’, অভিযোগ ভাইস প্রেসিডেন্টের

তাইওয়ানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিয়াও বি-খিম
বিদেশে এখন
0

চীন ‘সর্বত্র’ তাইওয়ানকে চাপে রাখায় দ্বীপটি অত্যন্ত কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। শুক্রবার এমন মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিয়াও বি-খিম। এর আগে পাপুয়া নিউগিনি জানায়, তারা তাইপের প্রতিনিধি কার্যালয় বন্ধ করে দিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে বেইজিং। চীনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। তবে গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপটি চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি ক্ষেত্র।

পাপুয়া নিউগিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাস্টিন তকাচেঙ্কো বৃহস্পতিবার জানান, তাইওয়ানের কার্যালয়টি বন্ধ করে দেয়া হবে। বেইজিং এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেও তাইপে এর নিন্দা জানিয়েছে। বেশির ভাগ দেশের মতো পাপুয়া নিউগিনিও তাইওয়ানের সঙ্গে নয়, বরং চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

তাইপেতে সাংবাদিকদের সিয়াও বি-খিম বলেন, ‘আমাদের কূটনৈতিক পরিস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত কঠিন। চীন আমাদের সর্বত্র চাপে ফেলছে—আমাদের টিকে থাকার এবং আন্তর্জাতিক পরিসর বাড়ানোর সুযোগগুলো দমিয়ে রাখছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি ধাক্কা। তবে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব—বিদেশে থাকা আমাদের স্বদেশিদের জন্য এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগের জন্য।’

বর্তমানে মাত্র ১২টি দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এর মধ্যে তিনটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে—পালাউ, টুভালু ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইওয়ানের কার্যালয় বন্ধের বিষয়ে পাপুয়া নিউগিনির ঘোষণা সম্পর্কে তারা অবগত। বিস্তারিত ব্যাখ্যা না করে তারা যোগ করে, ‘আমরা যথাসময়ে এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও তথ্য চাইব।’

তাইওয়ান ও পাপুয়া নিউগিনি উভয়েই এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) জোটের সদস্য। ২০১৮ সালে পোর্ট মোরেসবিতে এই জোটের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তাইওয়ান সরকারের একজন দূত অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯৯ সালে খুব অল্প সময়ের জন্য তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল পাপুয়া নিউগিনির। এছাড়া ফিজিতেও তাইওয়ানের একটি প্রতিনিধি কার্যালয় রয়েছে।

এএম