জর্ডান ও ইরাকে নিহত তিন মার্কিন সেনার ‘সম্মানে’ আগের রাতেই ইরানকে ‘খুব জোরে আঘাত’ করা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। এই সর্বশেষ হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মঙ্গলবার দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের কেন্দ্রীয় ডেটা অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরনা জানিয়েছে, ‘আইআরজিসি একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বাহরাইনে মার্কিন কোম্পানি অ্যামাজনের কেন্দ্রীয় ডেটা অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে।’ তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লেও দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান এখনো চলছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলাগুলোতে ইরানের ‘সামরিক কমান্ড সেন্টার, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ স্থান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, হামলার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় হামলার শিকার দুটি ট্যাংকারের ক্রুদের উদ্ধারকারী দল সরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর কর্মীরা লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন। ইউকেএমটিওর উল্লেখ করা ট্যাংকারটি ইরানের দাবি করা ট্যাংকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জর্ডানের মুয়াফফাক সাল্টি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান। সেন্টকম জানিয়েছিল, ওই হামলার পর তৃতীয় আরেকজন সেনা নিখোঁজ ছিলেন এবং পরে সেখান থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, জর্ডানের সেনাবাহিনী সোমবার রাতে জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এ সময় গোটা দেশে সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। এর আগে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করে। বাহরাইনও জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন তাদের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আগের রাতের হামলার বিষয়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেনিসহ বেশ কয়েকটি শহরে আঘাত হানা হয়েছে। প্রণালি পার হওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। যদিও সেন্টকম এই দাবি অস্বীকার করেছে।





