এপস্টেইনের সহযোগী ফরাসি মডেল রিক্রুটার সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু

জেফরি এপস্টেইন ও ড্যানিয়েল সিয়াদ
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ ফরাসি মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদ (৬৯) প্যারিসের কাছে নিজের বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। কৌঁসুলি ও তার আইনজীবী এ কথা জানিয়েছেন। ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (আরএফআই) রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

গত সোমবার সন্ধ্যায় প্যারিসের কাছে কলোম্বেসে সিয়াদের বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার নানতেরের সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয় লে পারিসিয়েঁর প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে এ তথ্য জানায়।

ফ্রান্সে সিয়াদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। দণ্ডপ্রাপ্ত এই যৌন অপরাধীকে নারীদের পাচার ও তাদের ওপর নিপীড়নে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ফরাসি ব্যক্তিদের মধ্যে সিয়াদ ছিলেন অন্যতম। তদন্তকারীরা তাকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেননি। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, তিনি নিজের বক্তব্য দিতে চান এবং তার পক্ষের কথা শোনা হোক।

সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয় জানিয়েছে, ‘সোমবার সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’ তদন্তের অংশ হিসেবে ময়নাতদন্ত করা হবে।

এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
ধর্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগে ফরাসি তদন্তকারীরা সিয়াদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলেন। অভিযোগ ছিল, তিনি এপস্টেইনের জন্য নারী সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করতেন। এপস্টেইনের ফাইলের গোপন তথ্য উন্মুক্ত করার সময় প্রকাশিত এক হাজারের বেশি নথিতে সিয়াদের নাম এসেছে। তিনি নিজে নারী সংগ্রহের কাজকে মাছ ধরার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

সিয়াদের আইনজীবী মেন্যা আরব-তিগ্রিন বলেন, তার মক্কেল মারা যাওয়ার আগে নিজের বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘তিনি মারা গেছেন এবং তিনি নির্দোষ ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে অসহনীয় অপেক্ষা, প্রতিদিন তার সহ্য করা চাপ এবং উদ্বেগেরও এতে ভূমিকা থাকবে।’

সিয়াদ দাবি করে আসছিলেন, এপস্টেইন তার ‘বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছেন’।

ভুক্তভোগীদের কাছে সিয়াদ ছিলেন ফ্রান্সে এপস্টেইন-সংক্রান্ত ঘটনায় ‘কী ঘটেছিল সে বিষয়ে অবশেষে আলো ফেলার’ একটি সম্ভাব্য পথ। ফ্রান্সের সাবেক মডেল জুলিয়েট জি এ কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, ২০০৪ সালে সিয়াদই তাকে সংগ্রহ করে এপস্টেইনের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখতে পদবি প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘সত্য উদ্‌ঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারত—এমন আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হলো।’

সুইডেনের সাবেক মডেল এবা কার্লসন ফেব্রুয়ারিতে সিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন। পঞ্চাশের কোঠায় বয়সের কার্লসনের অভিযোগ, ২০ বছর বয়সে তাকে ধর্ষণ করেছিলেন সিয়াদ। এএফপিকে কার্লসন বলেন, ‘এটি খুবই হতাশাজনক। তাকে গ্রেপ্তারের একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিলাম আমরা। ন্যায়বিচার পেতে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি।’

কার্লসনের অভিযোগ, বিখ্যাত এলিট মডেলিং এজেন্সির সাবেক ইউরোপ প্রধান জেরাল্ড মারির সঙ্গেও তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সিয়াদ। মারির বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন তিনি। বেশ কয়েকজন নারী মারির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগ তুলেছেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত করার জন্য ফ্রান্সকে আহ্বান জানিয়েছেন। মারি বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মডেলিং শিল্পে নিপীড়নের শিকারদের সহায়তায় গঠিত একটি সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বিবিসির সাবেক সাংবাদিক লিসা ব্রিংকওয়ার্থ সিয়াদের মৃত্যুর খবরে হতভম্ব হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে যৌন নিপীড়নের জন্য মারির বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছেন ব্রিংকওয়ার্থ। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং একাধিক ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগের সম্মুখীন সিয়াদের বিষয়ে জেনেও প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয়ের নিষ্ক্রিয়তা বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি এখন সরকারি কৌঁসুলির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি যেন এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত এবং একই ধরনের অভিযোগের সম্মুখীন সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করা হয়।’

এএম