ফিফায় নতুন সংকট, পদ হারানোর শঙ্কায় ইনফান্তিনো

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিদেশে এখন
0

কয়েকদিনের ব্যবধানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সংকট। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এ কর্মকর্তার পদ এখন অনেকটাই ঝুঁকিতে। এরই মধ্যে বেশকিছু কনফেডারেশন তার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে। ইনফান্তিনো কীভাবে প্রেসিডেন্ট পদ হারাতে পারেন এবং বাস্তবে সেই সম্ভাবনা কতটা।

কয়েকদিন আগেও ফিফার সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তের সামনে তিনি। ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা সামনে আসতেই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বেশ কয়েকটি ফুটবল কনফেডারেশন।

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে উয়েফা। তারা শুধু পরিকল্পনার বিরোধিতা নয়, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথাও জানিয়েছে। ফিফার নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি তুলেছে কনকাকাফ। এশিয়ার অনেক সদস্যও তার পাশে দাঁড়ায়নি। এমনকি সরে গেছেন ইনফান্তিনোর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীও।

আরও পড়ুন

এ অবস্থায় বেশ জোরেশোরেই উঁকি দিচ্ছে ইনফান্তিনোর পদ হারানোর শঙ্কা। যেখানে সবচেয়ে সহজ পথ তার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ। তবে এখন পর্যন্ত তার এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। দ্বিতীয় পথ, ফিফা কাউন্সিলের জরুরি সভা। ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলের অন্তত ১৯ জন চাইলে এই সভা ডাকা যাবে। সেখানে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হতে পারে। যদিও তিনি তা মানতে বাধ্য নন।

ইনফান্তিনোকে সরাতে তৃতীয় বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ বিশেষ ফিফা কংগ্রেস। অন্তত ৪৩টি সদস্য দেশ লিখিত আবেদন করলেই এ কংগ্রেস ডাকা সম্ভব। উয়েফার একাই ৫৫ সদস্য থাকায় তারা চাইলে এ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তবে ইনফান্তিনোকে সরাতে ২১১ সদস্যের মধ্যে অন্তত ১০৬ ভোট লাগবে।

এ পথে আছে আরেক সমীকরণ। কনফেডারেশন হিসেবে ১৩৬টি দেশ ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা করলেও সবাই যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ভোট দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। এরই মধ্যে তাকে সমর্থন দিয়েছে কাতার। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার কনফেডারেশন এখনো তার বিরুদ্ধে যায়নি। ফলে ইনফান্তিনো না চাইলে সহজেই তাকে সরিয়ে দেয়া সহজ হবে না।

জেআর