ইরান ইস্যুতে চাপে ট্রাম্প, বাড়ছে সমালোচনা

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

ইরান যুদ্ধে কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতার জন্য দেশ ও দেশের বাইরে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ভর্ৎসনা শুনতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। গেল ৫ মাস ধরে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি কিংবা চুক্তি করার হুঁশিয়ারি দিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষেত্রেই সফল হতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্টো ফাঁকা বুলির কারণে শিকার হয়েছেন উপহাসের। কর্তৃত্বের চূড়ায় বসেও কথা আর কাজের মিল না থাকায় প্রশ্নের মুখে রিপাবলিকান শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যতও। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব কারণে প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদের বাকি ২ বছরের পথচলা সহজ হবে না ট্রাম্পের জন্য।

ইরানে অভিযান শুরুর পর গেল ৫ মাসে একের পর এক ধাক্কা খেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে সামরিক-কূটনৈতিক কোনো লড়াইয়ে বিশেষ সুবিধা করতে না পারার গ্লানি স্বীকারও করতে চাইছেন না এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। শঙ্কা আছে, রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ প্রভাবিত হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের কারণে, সুখকর হবে না দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি ২ বছরের শাসনামল।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা- রাজনৈতিক সহচর আর ঘনিষ্ঠজনদের আস্থা হারানো। প্রশ্ন ওঠে, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টদের একজন হয়েও কেন ইরান ইস্যুতে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কোণঠাসা অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

আরও পড়ুন:

চুক্তি করার জন্য এটাই ইরানের শেষ সুযোগ, সমঝোতা করার জন্য মরিয়া হয়ে গেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতারা। গেল এক মাসে প্রেস নিয়মিত ব্রিফিং-এ, ভাষণে, শোকসভায়, ট্রুথ সোশ্যালে- এই একই বুলি আওড়েছেন ট্রাম্প। চেয়েছিলেন চাপ দিয়ে তেহরানকে সমঝোতার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু লাভ হয়নি। হরমুজ প্রণালি সচল করা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির অবসান- কিছুরই সমাধান কর‌তে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এতে করে সবচেয়ে বেশি আস্থা হারিয়েছেন উপসাগরীয় মিত্রদের, যারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিলো, ইরানকে চাপে ফেলে হরমুজ সচলসহ বাকি লক্ষ্যও পূরণ করবেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই ফাঁকা বুলি আর ব্যর্থতার এক খতিয়ান প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে ইরানে অভিযান শুরুর পর হরমুজ অচল করে দেয় তেহরান। ২ দিনের মধ্যে তা সচল না করলে হামলার হুমকি দিলেও ৪৮ ঘণ্টা পর ট্রাম্প আসেন নিজের আল্টিমেটাম থেকে। ৭ এপ্রিল গোটা ইরানি সভ্যতা বিলিনের হুংকার দিয়েও কিছুই করেননি ট্রাম্প, ঘোষণা দেন ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির।

এরপর ১৭ই মে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন হামলা করবে যে ইরানের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, পরদিনই বাতিল করেন হামলার পরিকল্পনা। জুনের ১৭, জুলাই-এর ২৭ আর সবশেষে ২ আগস্ট- একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। হামলার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা।

একই অসঙ্গতি দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়েও। যুদ্ধ শুরুর পর ৯ মার্চ সিবিএস নিউজকে বলেন, যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন হয়েছে, দ্রুত চুক্তি হবে। এপ্রিলের ৭ তারিখে বলেন চুক্তির খুব কাছাকাছি ওয়াশিংটন। মে মাসের ২৩ তারিখেও একই বক্তব্য দেন ট্রাম্প আর জুনের ৮ তারিখ বলেন যুদ্ধে চূড়ান্ত জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষ গেল সোমবার বলে বসেন, চুক্তির জন্য মরিয়া ইরান- যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তেহরান।

দেখা যাচ্ছে, সর্বসাকুল্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আর অকার্যকর সমঝোতা স্মারকে সই ছাড়া আদতে কিছুই অর্জন করতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যার সবচেয়ে বড় মাশুল দিতে হচ্ছে উপসাগরীয় মিত্র, তেল কোম্পানি, রিপাবলিকান অর্থদাতাসহ খোদ মার্কিনীদের। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এসব কারণে মেয়াদের বাকি ২ বছরের পথচলা সহজ হবে না ট্রাম্পের জন্য।

এফএস