ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার ‘সাফারি’ হামলা; আতঙ্কে বাসিন্দারা

পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলো
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জাপোরিঝঝিয়ার উদ্যোক্তা কাতেরিনা লাহুতা। গত মাসে রুশ বোমা তার সামুদ্রিক খাবারের প্রসেসিং ইউনিটে আঘাত হানার পর শেষ নিরাপত্তাটুকুও হারিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই নারী। ২০২২ সালে পুরোদমে আক্রমণ শুরুর পর থেকেই প্রায় ৭ লাখ মানুষের এই শহরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে মস্কোর বাহিনী। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ধরন বদলে গেছে। সম্মুখ সমরে খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে ইউক্রেনের শহরগুলোতে আকাশপথে হামলা আরও জোরদার করেছে রাশিয়া। বাসিন্দারা বলছেন, আকাশ থেকে ড্রোন দিয়ে বেসামরিক মানুষকে যেভাবে খুঁজে খুঁজে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তা এখন এক মরণঘাতী ‘সাফারি’ বা শিকারে পরিণত হয়েছে। খেরসনের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের হামলার শিকার হলেও এখন জাপোরিঝঝিয়াতেও তা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্সের সাংবাদিকেরা লাহুতার গুদাম পরিদর্শনের সময় বিস্ফোরকবাহী ছোট ও দ্রুতগতির ‘এফপিভি’ ড্রোনের গুনগুন শব্দ শুনে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হন। এ ধরনের ড্রোনগুলো দূর থেকে ভিডিওর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা সম্মুখ সমরকে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে।

রাশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে লাহুতা বলেন, রুশ হামলায় তার গুদাম এখন ছাইয়ের স্তূপ। খদ্দেররা ভয়ে আসছেন না, আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার মতে, এখানে প্রতিদিন টিকে থাকাই যেন এক যুদ্ধ।

জাপোরিঝঝিয়ার গভর্নর ইভান ফেদোরোভ বলেন, শত্রু পক্ষ এখন বেসামরিক মানুষের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা প্রথমবারের মতো বেসামরিক নাগরিক ও গণপরিবহন লক্ষ্য করে এফপিভি ড্রোন ব্যবহার করছে। এ ছাড়া নতুন ও আরও শক্তিশালী গ্লাইড বোমা দিয়েও নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে, যা প্রতিহত করার মতো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

শহরটির কেন্দ্রস্থলে ক্যাফে ও সাধারণ মানুষের চলাফেরা স্বাভাবিক মনে হলেও সন্ধ্যাগুলোতে এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় কসমস ডিস্ট্রিক্টে ড্রোনের হাত থেকে বাঁচতে গাড়ির ওপর বিশেষ জাল বা নেটিং ব্যবহার শুরু হয়েছে। বাস চালকেরা বলছেন, ড্রোন হামলার আতঙ্কে যাত্রী ও চালক উভয়ই ভীত। গভর্নর জানান, প্রায় ৯৫ শতাংশ ড্রোন ধ্বংস করা সম্ভব হলেও কয়েকটি লক্ষ্যভেদ করলেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

একদিকে খারকিভেও রাশিয়া একই কৌশলে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার মেয়র ইহোর তেরেকোভ। অন্যদিকে জাপোরিঝঝিয়ার বাসিন্দারা এই বিপজ্জনক জীবনের সঙ্গেই কোনোমতে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। ৬ বছর বয়সী মেয়ের মা আনিয়া সিভোভা বলেন, ‘শুনে হয়তো ভয়ংকর মনে হবে, কিন্তু আমরা এই জীবনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আপাতত আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’

এএম