শুক্রবার স্পেনের সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের ওপর ইতালির এই তল্লাশি সিদ্ধান্ত ‘অযৌক্তিক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থবিরোধী এবং স্প্যানিশ নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘৯ আগস্ট রোববারের মধ্যে ইতালি এই নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারে ব্যর্থ হলে, নাগরিকদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় স্পেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।’
সেউতা সীমান্তে ৭২ হাজার মানুষের প্রবেশের চেষ্টায় প্রায় ৮০ জন অভিবাসী প্রাণ হারানোর পর ইতালি এই সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও ইতালির সঙ্গে স্পেনের কোনো স্থল সীমান্ত নেই, তারপরও সেউতায় প্রবেশ করা কোনো অভিবাসী যেন ইতালিতে ঢুকতে না পারে, সেই যুক্তিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবাধ চলাচলের চুক্তি ‘শেনজেন’ আংশিকভাবে স্থগিত করেছে রোম।
মাদ্রিদের দাবি, ইতালির এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। সেউতায় অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীরা মূলত শেনজেন এলাকায় ঢোকার সুযোগই পান না। স্প্যানিশ সরকার আরও জানিয়েছে, এই অভিবাসীদের বেশিরভাগই ইতিমধ্যে উত্তর আফ্রিকার ওই ছিটমহল ছেড়ে মরক্কোয় ফিরে গেছেন। এই বিষয়ে ইতালির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিত্র দুই দেশের মধ্যে এই টানাপোড়েন ইতালির রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও স্পেনের সমাজতান্ত্রিক নেতা পেদ্রো সানচেজের সম্পর্কের অবনতির সর্বশেষ নজির। মেলোনি ইউরোপে কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে সানচেজ তুলনামূলক উদার নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার একটি বৃহৎ কর্মসূচিও চালু করেছেন। স্প্যানিশ সরকারের দাবি, ইতালিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের সংখ্যা স্পেনের তুলনায় দ্বিগুণ।





