যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ; হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

হরমুজ প্রণালি
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ‘সমঝোতা স্মারক’ কার্যকর থাকার সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় তিন গুণ বেড়েছিল। তবে এই বৃদ্ধি যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম ছিল। জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য এ তথ্য জানানো হয়।

পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ দিনের এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। দৈনিক হিসেবে এই সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬১ লাখ ব্যারেল।

‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন সমঝোতা স্মারকটি সই হওয়ার আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ২৩ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছিল। চুক্তিটির আওতায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও তা যুদ্ধপূর্ব স্তরের তুলনায় অনেক কম। ২০২৫ সালে এই প্রণালি দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতো, বর্তমান সরবরাহ তার মাত্র ৪০ শতাংশ।

‘কেপলার’-এর অপরিশোধিত তেল ও ভূরাজনৈতিক বাজার বিভাগের প্রধান ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, চুক্তির প্রথম তিন সপ্তাহে অর্ধেকের বেশি সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার দিকে এই প্রবাহ বেশ কমে আসে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন ঘোষিত এই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ গত সোমবার শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা থমকে যাওয়ায় কোনো নতুন রফা ছাড়াই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলো।

সমঝোতা স্মারকটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ‘ইউকেএমটিও’ অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ওমান উপকূলে একটি কার্গো জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক নিহত হয়েছেন।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘ইন্টারকারগো’ জানিয়েছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ওই বাল্ক ক্যারিয়ারের নাম ‘মিনোয়ান ডিগনিটি’ এবং নিহত ব্যক্তি ওই জাহাজের ক্রু ছিলেন। ‘ইন্টারকারগো’ এক বিবৃতিতে বলেছে, সংঘাতের শিকার প্রতিটি জাহাজের পেছনে থাকেন সাধারণ বেসামরিক নাবিকেরা, যারা বৈশ্বিক বাণিজ্য সচল রাখেন। তারা ভূরাজনৈতিক সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন না।

গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় অন্তত ১৮ জন নাবিক নিহত হয়েছেন বলে ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও)’ জানিয়েছে। হামলার জন্য ইরান ও মার্কিন বাহিনী পরস্পরকে দায়ী করে আসছে।

‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে গত ১০ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে ৭৩টি জাহাজ যাতায়াত করেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯১টি।

চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় বাজারে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৯৩ ডলারে পৌঁছেছে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘কেসিএম ট্রেড’-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’-কে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অচলাবস্থার কারণে বাজারে তেল সরবরাহ আরও কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটবে না।

এএম