কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ভবন
বিদেশে এখন
0

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ যাওয়া ৭ বাংলাদেশির মরদেহের ময়নাতদন্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। দুর্ঘটনার জেরে হোটেলের ইজারাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে আরও দুই কর্মীকে। এদিকে, ভয়াবহ এই অগ্নি দুর্ঘটনার পর মিনি বাংলাদেশ খ্যাত নিউ মার্কেট এলাকার এক হাজারেরও বেশি হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আশেপাশের এলাকার আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজেও অগ্নি-ঝুঁকি যাচাইয়ে চলছে অভিযান।

যেকোনো উপায়ে আনতে হবে গ্রাহক। নেই জন নিরাপত্তা বা সুরক্ষার দিকে কোনো নজর। বলছিলাম কলকাতার মিনি বাংলাদেশে পরিচিত নিউ মার্কেটের কলিন স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রীট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিটসহ একাধিক জায়গায় গড়ে ওঠা হাজারো হোটেলের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কথা।

গতকাল বুধবার ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের এমন এক হোটেল শিখা ইনে আগুনে পুড়ে প্রাণ যায় ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের। এই দুর্ঘটনার পর হোটেলটির ইজারাদার হিসেবে নিবন্ধিত আবু জাফরের নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আরও হেফাজতে নেয়া হয়েছে হোটেলের দুই কর্মীকে।

আর বাংলাদেশিদের মরদেহগুলো ফেরত আনার বিষয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরইমধ্যে নিউ মার্কেটের ঐ অগ্নিদগ্ধ হোটেলটি পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা।

তবে, এই সবকিছু ছাপিয়ে বারবার আলোচনায় আসছে, মিনি বাংলাদেশ খ্যাত নিউ মার্কেটের ঐ এলাকাটিতে অবস্থিত হাজারেরও বেশি হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নি-ঝুঁকির প্রসঙ্গ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিদেশি পর্যটকরা বলছেন, বেশিরভাগ গেস্ট হাউজেরই অবস্থা গোলক ধাঁধার মতো। কোনটা প্রবেশ পথ, কোনটা বের হওয়ার পথ বোঝা মুশকিল। বেশিরভাগ হোটেলের ইলেকট্রিক ওয়ারিং অবস্থা করুণ, যত্রতত্র ঝুলছে ইলেকট্রিকের তার। লিফ্ট কয়েক দশক পুরনো, একটি ঘর থেকে আরেকটি ঘরে যাওয়ার জন্য রয়েছে সরু গলি, যেখানে পাশাপাশি দুইজন লোকও যাতায়াত করা কঠিন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কবলিত শিখা ইন হোটেলে ছিল না ফায়ার লাইসেন্স, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অডিটও করা হয় নি। স্থানীয় স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি'রও দাবি আগে এখানে শুধু আবাসিক ভবন ছিল। পরে একের পর এক হোটেল, গেস্ট হাউজ হয়ে যায়। তাই সেখানে মানা হয়নি কোনো নিয়মকানুন। কিভাবে এই আবাসিক হোটেলগুলো লাইসেন্স পেয়েছে সেটাও বড় প্রশ্ন।

ইএ