টাইফুন নারার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ভিয়েতনামের পার্বত্য অঞ্চল কুয়াং নিন, লাং সনসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। প্রবল বৃষ্টিতে ভূমিধ্বস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত কয়েক হাজার মানুষ। গত একদিনে ৯ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি। বেশকিছু শহরের পর্যটন, মৎস্য ও পরিবহন ব্যবস্থা পড়েছে বিপর্যয়ের মুখে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, টাইফুনটি স্থলভাগে আঘাত না হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালিয়েছে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলে। টানা প্রবল বর্ষণে ফুলে ওঠেছে নদী, ভূমিধ্বস ও বৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জনপদ। এছাড়া, বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হয়ে বিদ্যুতবিচ্ছিন্ন হয়ে আছে অর্ধলাখের বেশি গ্রাহক।
টাইফুন নারার প্রভাবে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়াংজি প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে। আগামী বুধবার পর্যন্ত এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের ১৫টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে গুয়াংজি, গুয়াংডং, হাইনান ও ফুজিয়ান অঞ্চলে। বৈরি আবহাওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে মনুষ্যবিহীন চ্যাং ই-সেভেন চন্দ্রাভিযানের উৎক্ষেপণ।
এছাড়া, দক্ষিণ তাইওয়ানে নারার প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতে দেখা দিয়েছে বন্যা। ভারী বৃষ্টির পর কাওশিউং শহরে সিঙ্কহোলের ঘটনা ঘটেছে। গেল পাঁচ তাইওয়ানে সাড়ে ৪ ফুট পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাস্তাঘাট ও দোকানপাট তলিয়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে জনজীবনে।
এদিকে, ভারতের রাজধানী দিল্লি ও এর আশপাশের অব্যাহত রয়েছে ভারী বৃষ্টি। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শহরের বাসিন্দারা। বেশকিছু জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ।





