রুশ হামলায় ইউক্রেনে শিশুসহ নিহত অন্তত ৪৭, আহত ৩২৯

আহতদের উদ্ধারে কাজ করছে উদ্ধারকারী দল
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেনে গেল সপ্তাহজুড়ে চালানো রুশ হামলায় শিশুসহ অন্তত ৪৭ জন নিহত ও ৩২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘ। এরমধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের একটি ছোট চালান হাতে পেয়েছে কিয়েভ। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন দিয়ে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের ধাওয়া করে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, ইউক্রেনীয় হামলা থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় নতুন একটি বিলে সই করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ইউক্রেনের শপিং সেন্টারে রাশিয়ার 'ডাবল-ট্যাপ' হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এছাড়াও, সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত গেল এক সপ্তাহে ইউক্রেনজুড়ে চালানো রুশ হামলায় শিশুসহ অন্তত অর্ধশত নিহত এবং ৩২৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, গেল মঙ্গলবার ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় দু'দেশে বেশ কয়েকজনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন সম্প্রতি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম কয়েকটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর হাতে পেয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, চাহিদার তুলনায় এগুলো অত্যন্ত কম, তাদের আরও প্রচুর পরিমাণে ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন। তবে, যুক্তরাষ্ট্র নাকি অন্য কোন দেশ একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে কিয়েভকে সরবরাহ করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আমরা আরও কয়েকটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রোটাল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছি। তবে কয়টি পেয়েছি সেটি বলতে পারব না। আমাদের আরও দরকার। এছাড়াও, বেশ কয়েকটি এয়ার-ইন্টারসেপ্ট-ক্ষেপণাস্ত্রও পেয়েছি। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এগুলো শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহার করি।

অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর সুরক্ষা ও দ্রুত মেরামত নিশ্চিত করতে একটি জরুরি আদেশ জারি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বড় বড় বাণিজ্যিক লজিস্টিক ও গুদামখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক বেসরকারি মালিক বা প্রতিষ্ঠান সময়মতো এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মেরামত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নতুন এই ডিক্রির ফলে মেরামত কাজে বিলম্ব হলে সরকার সেখানকার সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিয়েভ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, রুশ ড্রোন অপারেটররা ফ্রন্টলাইন এলাকার শহরগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর স্রেফ নজরদারি নয়, বরং তাদের ধাওয়া করে আক্রমণ চালাচ্ছে। রাশিয়ার এমন কর্মকাণ্ডকে তারা মানবশিকার নামে অভিহিত করেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ, রাস্তার বিক্রেতা ও সাইকেল আরোহীদের ওপর ড্রোন চক্কর দিয়ে তাদের ওপর বিস্ফোরক ফেলে হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। জাতিসংঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এই ধরনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার সুপরিকল্পিত কৌশল। বেসামরিকদের মনে আতঙ্ক তৈরি ও তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল।

ইএ