হিমালয়ের কোল ঘেঁষা নেপাল-তিব্বত অঞ্চলে পাহাড়ি ঢল-বন্যা-হিমবাহ ধস-ভূমিকম্প অপরিচিত কোনো দুর্যোগ না। কিন্তু গেল বুধবার প্রকৃতির যে তাণ্ডব দেখা গেল, তা সচরাচর খুব একটা দেখা যায়না। নজিরবিহীন পাহাড়ি ঢল আর আকস্মিক বন্যার কারণ বিশ্লেষণে দিনরাত এক করে কাজ করছেন চীনের চেংডু ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির গবেষকদল।
দুর্যোগের কারণ নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও বেশিরভাগ ভূতত্ত্ববিদের ধারণা হিমবাহ থেকে ছিটকে পড়া বরফের টুকরো থেকেই এই বিপর্যয়। দুর্ঘটনার সময় তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ৫,০০০ মিটারেরও বেশি উঁচ্চতায় হিমবাহের একটি অংশ প্রায় ১২শ মিটার নিচে ধসে পড়ে। বরফ গলা পানির সঙ্গে মিশে যায় কাদা-মাটি। এই মিশ্রণ তীব্র গতিতে নেমে আসে আরও ৩ হাজার মিটার নিচে। চরম উচ্চতা আর অস্বাভাবিক গতির কারণে বরফগলা পানি আর কাদাতেই লণ্ডভণ্ড হিমালয় কন্যা।
নিউজিল্যান্ড আর্থ সায়েন্সের ভূতাত্ত্বিক ড. সাইমন কক্স বলেন, ‘বরফগলা পানি থামেনি বরং একনাগাড়ে এগিয়ে চলেছে। উপত্যকায় থাকা পানির সাথে মিশে সামনের দিকে আরও প্রবল স্রোতে নেমে এসেছে। ঠিক যেমন একটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ চাপ দিয়ে ভেতরের সব কিছু সামনে ঠেলে বের করে দেয়।’
বরফ গলা পানির সঙ্গে কাদা মিশে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি হয়েছে বলেও ধারণা তাদের। কাদা-পানির তীব্র স্রোতকে ভেজা কনক্রিটের সাথে তুলনা করেছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এই ধরণের কাদার স্রোত ঘণ্টায় ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে নামতে পারে।
তবে চাঞ্চল্যের এখানেই শেষ নয়, চলতি সপ্তাহে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রলয়ংকারী দ্বিতীয় ঢল বা প্লাবনের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চীন-নেপাল সীমান্তে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম হ্রদ। এই হ্রদ প্লাবিত হলে চলতি সপ্তাহেই তেড়ে আসতে পারে দ্বিতীয় ঢল। এছাড়াও, হিমবাহ-হ্রদের গতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে থাকায় খাড়া ঢালু এলাকাগুলো এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়।
যদিও এরইমধ্যে, ভোটেকোশি নদী তীরবর্তী ৩ জেলাকে আগামী ৩ মাসের জন্য 'দুর্যোগকবলিত অঞ্চল' ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার। আপাতত সেখানে শুধুমাত্র দুর্গতদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরিয়ে নেয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। ফলে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩ জেলা অর্থাৎ, রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং-এ আবারও ঢল নামলে, উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হলেও, জানমালের বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





