ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছে ব্রিটেন; ‘আগুনের সঙ্গে খেলছে’ বললো রাশিয়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেনকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেয়ায় ব্রিটেনের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো হুমকি দিয়ে বলেছে, এর জবাবে তারা ইউক্রেনের ভেতরে ও বাইরে যেকোনো ব্রিটিশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। এর মধ্যেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রধান মস্কো সফর করে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোতে হামলা না চালাতে ক্রেমলিনকে সতর্ক করেছেন বলে খবর এসেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সোমবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইউক্রেনকে নিজস্ব স্টর্ম শ্যাডো দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করার জন্য তাদের গোপন প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার দেবে যুক্তরাজ্য। ফ্রান্সও এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা গত বৃহস্পতিবার বলেন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ‘আগুনের সঙ্গে খেলছে’।

এই হুমকির জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্রিটেন ইউক্রেনের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে। পুতিনের অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউক্রেন ও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসনের মুখে এই সরকারের সংকল্প নিয়ে রাশিয়ার কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ গত মঙ্গলবার গোপনে মস্কো সফর করেন। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, রাশিয়া কোনো একটি ন্যাটো সদস্য দেশের ওপর সীমিত আকারে হামলা চালিয়ে তাদের পরখ করতে পারে। এই হামলা সাইবার হামলা থেকে শুরু করে বাল্টিক কোনো দেশে ছোটখাটো অনুপ্রবেশও হতে পারে।

তবে সিআইএ প্রধানের মস্কো সফর ও হামলার আশঙ্কার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এ ধরনের অনেক ভীতি ছড়ানোর মতো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। অবশ্যই বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই এবং রুশ ফেডারেশনের এমন কোনো উদ্দেশ্যও নেই।’

এদিকে ইউরোপে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে ইউরোপে উন্নত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার মুখে ইউরোপের ন্যাটো দেশগুলোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে কিয়েভ। এর জেরে ক্ষুব্ধ মস্কো একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছে। সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপানের দাবির মুখে তাদের বিরুদ্ধেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে তারা ইতিহাসের ‘সবচেয়ে খারাপ’ সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এএম