ফার্স বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অর্জিত এই রাজস্ব চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের সব বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় মেটাতে সক্ষম হবে। মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও দেশটির বাজেট লক্ষ্যমাত্রা প্রায় স্পর্শ করেছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর এই সংকটের সৃষ্টি হয়। জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার কথা ছিল। তবে ওয়াশিংটন তাদের ওপর অর্পিত প্রতিশ্রুতি—যেমন অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করায় ইরান সম্পূর্ণভাবে প্রণালিটি উন্মুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব নেই; তাদের উদ্দেশ্য করে কী বলব আমি জানি না। আমরা একটি যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে আছি এবং এই যুদ্ধকালীন বাস্তবতা আমাদের মেনে নিতেই হবে।’
তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেকা মোতামেদিয়ান ফার্স ও ইসনা বার্তা সংস্থাকে বলেন, নৌঅবরোধ ও অবকাঠামোতে হামলার কারণে ইরান নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। তিনি জানান, যুদ্ধের সময় তেহরান প্রদেশে ১ হাজার ২০০টির বেশি বিদ্যুৎ অবকাঠামো আক্রান্ত হয়েছিল, যা দ্রুততম সময়ে সংস্কার করা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সমুদ্র বাণিজ্যে স্থবিরতা বজায় রয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ৪০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ ও ৬ হাজার নাবিক আটকে আছেন। আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও দোমিঙ্গেজ সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি ও সার সরবরাহে ব্যাঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।





