সার্কের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে সোনাম তোপগের এই মনোনয়নে অন্য সাতটি সদস্যরাষ্ট্রের ঐকমত্যের প্রয়োজন হবে। সার্কের বর্ণানুক্রমিক আবর্তন পদ্ধতি অনুযায়ী এবার পরবর্তী মহাসচিবের নাম প্রস্তাবের সুযোগ পায় ভুটান। বর্তমানে সার্কের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের মো. গোলাম সারওয়ার। আগামী অক্টোবরের শেষে তার তিন বছর মেয়াদি দায়িত্ব পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর একটি বৈঠক হতে পারে। সেখানে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়ে দেশগুলো একমত হতে পারে। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—এই আট দেশ নিয়ে সার্ক গঠিত।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর নেপালের কাঠমান্ডুতে ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০১৬ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের কথা ছিল। তবে ওই বছর ভারতের উরিতে সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর নয়াদিল্লি ওই সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর আর কোনো শীর্ষ সম্মেলন হয়নি।
গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘সার্ক নিয়ে আমাদের অবস্থান আপনারা জানেন। আমি বহুবার তা স্পষ্ট করেছি। আমরা সবাই জানি কেন সার্ক এগোচ্ছে না এবং একটি নির্দিষ্ট দেশই এর জন্য দায়ী।’ নতুন মহাসচিব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সার্কের সচিবালয় রয়েছে বলেই মহাসচিবের পদটি আছে। তবে নতুন প্রার্থীর বিষয়ে আমাদের অবস্থান কী হবে, তা পরে জানানো হবে।’
এদিকে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্প্রতি আঞ্চলিক এই ফোরামকে কার্যকর করতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার। বৈঠকে সার্ক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। মহাসচিব স্মরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগকে, যার হাত ধরে এই সংস্থা গঠিত হয়েছিল। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি, অর্থনৈতিক সংহতি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সদস্যদেশগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।
—ইউএনবির প্রতিবেদনের অবলম্বনে





